kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

বাংলাদেশে দশম কারখানার যাত্রা শুরু

অপোর ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্মার্টফোন বাজারে

দেশে তৈরি স্মার্টফোন রপ্তানির পরিকল্পনা
জানুয়ারি থেকে মাদারবোর্ড উৎপাদনের প্রস্তুতি

মাসুদ রুমী   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অপোর ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্মার্টফোন বাজারে

গাজীপুরে স্থাপিত স্মার্টফোন নির্মাতা অপোর কারখানায় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশে দশম কারখানা চালু করেছে চীনভিত্তিক বৈশ্বিক স্মার্টফোন নির্মাতা অপো। গাজীপুরে স্থাপিত এই কারখানা থেকে বছরে ১০ লাখ ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ মোবাইল ফোন বানাবে প্রতিষ্ঠানটি। গত ১ নভেম্বর দেশে সংযোজিত অপো এ৫এস ও এ১কে মডেলর দুটি স্মার্টফোন বাজারে ছেড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চীনে উৎপাদিত সদ্য বাজারে আসা এ৯ ২০২০ ও এ৫ ২০২০ মডেলের স্মার্টফোন দুটিও ডিসেম্বর থেকে দেশে সংযোজনের প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া জানুয়ারি মাস থেকে এসএমটি মেশিন সংযোজনের মাধ্যমে মাদারবোর্ড উৎপাদনের কাজ চলছে। দেশের বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে বাংলাদেশে তৈরি স্মার্টফোন রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।  

অপো বাংলাদেশ কার্যালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশে স্মার্টফোন সংযোজনের ফলে দেশের বাজারে গ্রাহকরা আরো সাশ্রয়ী মূল্যে হাতে পাবে অপো স্মার্টফোন। দেশে সংযোজিত এ১ কে স্মার্টফোন বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার ৯৯০ টাকায় এবং এ৫এস স্মার্টফেন বিক্রি হচ্ছে ১৩ হাজার ৯৯০ টাকায়। আগে এই স্মার্টফোন দুটির (আমদানি) দাম ছিল যথাক্রমে ১২ হাজার ৯৯০ টাকা এবং ১৬ হাজার ৯৯০ টাকা। অপোর এই স্মার্টফোন কারখানায় বেশ কিছু মডেলের স্মার্টফোন তৈরি করা হবে। এর ফলে স্মার্টফোন নিয়ে নতুন সব উদ্ভাবন আরো সহজেই গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

বেনলি ইলেকট্রনিক এন্টারপ্রাইজ কম্পানি লিমিটেড নামে স্থাপিত এই স্মার্টফোন কারখানায় দুই শতাধিক ব্যক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে, যা আরো বাড়বে।

অপো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেমন ইয়াং কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। ডিজিটাইজেশনের দিক থেকেও নেতৃত্বের আসনে রয়েছে দেশটি। ফাইভজি প্রযুক্তি চালুর ক্ষেত্রেও প্রথম সারিতেই থাকতে চায় বাংলাদেশ। এখানে স্মার্টফোন সংযোজন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে অপো গ্রাহকদের হাতে আরো সাশ্রয়ী দামে স্মার্টফোন তুলে দিতে সক্ষম হবে, যা দেশজুড়ে মানুষের কাছে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা প্রদানে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এ ছাড়া অপোর এ বিনিয়োগের ফলে এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ যেমন তৈরি হবে, তেমনি দেশে প্রযুক্তিতে দক্ষ কর্মীও গড়ে তুলবে।’

তিনি বলেন, অপোর গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করেই এটি স্থাপন করা হয়েছে। এ বিনিয়োগ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেমন উজ্জ্বল করবে, তেমনি প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি করবে। বাংলাদেশে স্থাপিত এই কারখানা হতে যাচ্ছে বিশ্বে অপোর দশম স্মার্টফোন কারখানা।

২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে অপো। স্থানীয় বাজারে পাঁচ বছর কাজ করার পর এবার তাই আরো সাশ্রয়ী দামে মানসম্পন্ন স্মার্টফোন গ্রাহকদের হাতে তুলে দিতে এই স্মার্টফোন সংযোজন কারখানার কার্যক্রম শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১৬ কোটি ২৩ লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এবং ৯ কোটি ২৩ লাখ ৬১ হাজার মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে। দেশের বাজারে প্রতি মাসে ১০ লাখ নতুন হ্যান্ডসেন্টের চাহিদা রয়েছে। ক্রমবর্ধমান এ চাহিদার কথা মাথায় রেখেই দেশের বাজারে স্মার্টফোন কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান অপোর কর্মকর্তারা।

এ বছর অপো দেশের বাজারে এনেছে ‘এ’ সিরিজের দুটি স্মার্টফোন অপো এ৯ ২০২০ ও এ৫ ২০২০। এই ব্র্যান্ডের হাত ধরেই সূচনা হয় সেলফি বিউটিফিকেশনের এক নতুন যুগ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা