kalerkantho

বুধবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২ ডিসেম্বর ২০২০। ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

পিআরআই সম্মেলন

অর্থনৈতিক অগ্রগতি টেকসই হওয়া নিয়ে সংশয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বলতে গেলে স্থবির। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আশানুরূপ নয়। ব্যাংকিং খাত ধসে পড়েছে। পুঁজিবাজার ক্ষয়িষ্ণু। জিডিপির অনুপাতে কর আদায়ের হার দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম। বিনিয়োগের পরিবর্তে দেশ থেকে অর্থপাচার বাড়ছে। বাড়ছে আয়বৈষম্য। রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে না। ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। গণতন্ত্র দুর্বল অবস্থানে। সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। জনসংখ্যার বোনাসকালও কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এত এত সমস্যার মধ্যে বাংলাদেশ যদি বিশ্বব্যাংক ঘোষিত উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়, তাহলে সেই উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ কতটুকু টেকসই হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদরা।

তাঁরা বলেছেন, এত সমস্যার মধ্যে দেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে যেতে পারবে কি না তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। আর যদি বিশ্বব্যাংকের তিনটি মানদণ্ড মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা এই তিনটি সূচক অর্জন করলেও সেটি টেকসই হওয়া নিয়েও সংশয় আছে তাদের মধ্যে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট আয়োজিত চতুর্থ বিইএফ সম্মেলনে অর্থনীতিবিদরা এসব আশঙ্কার কথা বলেন। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, খেলাপি ঋণ এবং উচ্চ সুদ হারের কারণে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের তাগিদ দেন তাঁরা। তবে এসব বিষয়ে সরকারের নজর থাকলেও সংস্কারের ক্ষেত্রে ধীরে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, সংস্কার করা প্রয়োজন, করাও হচ্ছে। আরো করা হবে। তবে ঝুঁকির ভয়ও আছে। বর্তমান গতিকে বাধাগ্রস্ত করে সেটি করা হবে না। কেননা এখনকার উদ্যোগগুলো যেহেতু ফল দিচ্ছে সেহেতু এগুলোর পাশাপাশি সংস্কার করা হবে।

‘স্ট্রাটেজিস অ্যান্ড পলিসিস ফর অ্যান আপার-মিডল ইনকাম বাংলাদেশ’ শীর্ষক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. সাদিক আহমেদ, আইএনএমের নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরি, পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার এবং নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। আলোচনায় অংশ নেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর সেলিম রায়হান।

সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন খাতে সংস্কার প্রয়োজন আছে, এটাকে কেউ অস্বীকার করে না। এটা সরকারের চিন্তাও আছে। তবে সময় লাগলেও হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। সংস্কারের ক্ষেত্রে ঝুঁকির ভয়ও আছে। অর্থনীতির নিজস্ব গতি রোধ করা ঠিক নয়। সরকার সেটি পারে না। প্রতিটি পা ফেলার আগে আমরা চিন্তা করছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা