kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে গবেষণা

১৬ খাতে বড় উন্নতির আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৬ খাতে বড় উন্নতির আশা

দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত শিল্পকে বাইরে রেখে আরো ১৬টি খাতকে প্রতিশ্রুতিশীল ও সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার (ইউএসএআইডি) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে এসব খাতের ব্যাপক উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার বজায় থাকলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির বহুমুখীকরণ ও প্রবৃদ্ধিতে গতি সঞ্চার করবে।

তবে দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ছয়টি খাতকে মুখ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই সব খাত দেশের জিডিপিতে ১০ শতাংশ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ৩.৫ মিলিয়ন কর্মসংস্থান করেছে।

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে ‘কম্প্রেহেনসিভ প্রাইভেট সেক্টর অ্যাসেসমেন্ট’ বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করে ইউএসএআইডি। কনসালটেশন প্রতিষ্ঠান ইনসপিরা অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কনসালট্যান্সির মাধ্যমে ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের জুলাই সময়ে পরিচালিত এই গবেষণা গত সপ্তাহে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সম্ভাবনাময় ১৬টি খাতে চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এসব খাত দ্রুত উন্নতি করবে, দেশের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি রপ্তানির ক্ষেত্রেও গতি আনবে।

গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিশ্রুতিশীল ১৬টি খাত হচ্ছে, অ্যাগ্রো-প্রসেসিং (কৃষি প্রক্রিয়াকরণ), অটোমেটিভ/ট্রাক/ বাস অ্যাসেম্বলি (সংযোজন), সিরামিক, এন্টারপ্রেনারশিপ, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং আউটসোর্সিং, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা যন্ত্রপাতি শিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধসামগ্রী, প্লাস্টিক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতা, জাহাজ নির্মাণ, চিংড়ি ও মৎস্য, টেলিযোগাযোগ এবং পর্যটন।

সেখানে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানিতে শুধু তৈরি, পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর করছে। তবে এই পণ্যের বাইরেও বেসরকারি খাতে একাধিক পণ্য রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। কৃষি বাণিজ্য, হালকা প্রকৌশলশিল্প, আইসিটি ও আউটসোর্সিং, ট্যুরিজম, ওষুধশিল্প ও স্বাস্থ্যসেবা খাতকে দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে মুখ্য খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ছয় খাত জিডিপিতে ১০ শতাংশ অবদান ও ৩৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। আগামী ২০২৩ সাল শেষে ৬০ বিলিয়ন ডলার আয় করবে।

গবেষণায় বলা হয়, কৃষি বাণিজ্যে গত বছর ৪.৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। অদক্ষ ও নারী শ্রম শক্তির ওপর ভর করে এগিয়েছে, যা প্রায় তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করেছে। আইসিটি ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১.৭ বিলিয়ন ডলার আয়, যাতে ৯ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান, ট্যুরিজম শিল্পে অংশগ্রহণ ও বার্ষিক আয় বাড়ছে, গত বছর ৫.৩ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। হালকা প্রকৌশলশিল্পে আয় ৩.১ বিলিয়ন, এলডিসিভুক্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র রাষ্ট্র, যাতে গত ২.৫ বিলিয়ন ডলার আয় ও এক লাখ ৭০ হাজার কর্মসংস্থান করেছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ে পৌঁছাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা