kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

ছাড় পেয়েও কর জটিলতায় তৈরি পোশাক খাত

এম সায়েম টিপু   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাড় পেয়েও কর জটিলতায় তৈরি পোশাক খাত

তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ। কিন্তু চলতি অর্থবছরের গত কয়েক মাস ধরে এই আয় নেতিবাচক বিবেচনায় সরকার পোশাক খাতের উৎস করসহ অন্য খাতে কিভাবে প্রণোদনা দেওয়া যায় এসব বিবেচনায় নিচ্ছে। এ জন্য সরকার উৎস কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.২৫ শতাংশ করেছে। কিন্তু এটা কার্যকর অর্থবছরে প্রথম মাস থেকে নয়, এনবিআরের জারি করা এসআরও তারিখ থেকে। করছাড়ের এমন জটিলতায় বিজিএমইএ চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন তৈরি পোশাক রপ্তানি ও প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ অক্টোবরের উৎস ০.২৫ শতাংশ চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে কার্যকর করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে উৎস কর জুলাই থেকে কার্যকর করার সুপারিশ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে এনবিআরকে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবের লেখা সুপারিশপত্রে বলা হয়, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে ০.২৫ শতাংশ হারে কার্যকর করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে সুপারিশ করা হলো।

এর আগে অক্টোবর মাসের ২৭ তারিখ বিজিএমইএ বাণিজ্যসচিবকে ২১ অক্টোবর এনবিআর জারি করা এসআরও অনুসারে ১ শতাংশ উৎস কর থেকে ০.২৫ শতাংশ এসআরও জারির দিন থেকে কার্যকর করার কথা উল্লেখ করা হয়।

জানতে চাইলে রুবানা হক কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশের শীর্ষ আয়ের রপ্তানি খাত পোশাক উদ্যোক্তা এবং বিপুলসংখ্যক শ্রমিক স্বার্থ বিবেচনা নিয়ে উৎস কর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস থেকে ০.২৫ শতাংশ হারে কার্যকর করার দাবি জানান। পোশাক খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে তিনি নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ উৎস কর ও রপ্তানি বিলের ওপর স্ট্যাম ডিউটি প্রত্যাহার এবং ১ শতাংশ নগদ সহায়তা সব রপ্তানিকারকদের জন্য করা।

টানা তিন মাস ধরে আয় কমছে পোশাক রপ্তানির। অন্যদিকে প্রতিযোগী দেশগুলো এ সময় (২০১৯-২০) প্রবৃদ্ধি করছে। ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ১০ শতাংশের বেশি। পাকিস্তান করেছে ৪.৭৪ শতাংশ আর ভারত করেছে ২.২৫ শতাংশ।

দেশগুলোতে গত সাত বছরে যে হারে ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশে ততটা হয়নি। ফলে প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে বলে জানান রুবানা হক।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়ার অবকাঠামোতেও জটিলতা রয়েছে। দেশে রপ্তানি ডকুমেন্ট করতে সময় লাগে ১৪৭ ঘণ্টা। ভিয়েতনামের লাগে ৫০ ঘণ্টা। আমদানি প্রক্রিয়াতে আমাদের লাগে ১৪৪ ঘণ্টা আর ভিয়েতনামের লাগে ৭৬ ঘণ্টা।

বন্দর জটিলতার কথা উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সেখানে আমাদের সময় লাগে ১৫৮ থেকে ১৬৮ ঘণ্টা। যেখানে ভিয়েতনামের লাগে ৫৫ ঘণ্টা। তাই দেশের প্রধান এই রপ্তানি খাতকে সংকট সময়ে রপ্তানি আয়ের ২৫ শতাংশের ডলারের ওপর পাঁচ টাকা করে বাড়তি প্রণোদনা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান করেছেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা