kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রেমিট্যান্স মাসুল বেশি বলেই হুন্ডি

মাসুল কমানোর পথে বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রতি ১০০ ডলারে খরচ ৩০০-৪০০ টাকা

জিয়াদুল ইসলাম   

৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেমিট্যান্স মাসুল বেশি বলেই হুন্ডি

বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) পাঠানোর ফি (চার্জ) অনেক বেশি। হুন্ডি পথে পাঠাতে যে খরচ তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গুনতে হয় বৈধ পথে। বর্তমানে এই ফি গড়ে শতকরা ৩ টাকার বেশি। অর্থাৎ প্রতি ১০০ ডলার পাঠাতে প্রবাসীদের গড়ে ৩০০ টাকার বেশি গুনতে হয়। কোনো কোনো দেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রেরণ ফি এখনো ৪৩০ টাকার বেশি। নানা উদ্যোগের পরও হুন্ডি পথে রেমিট্যান্স পাঠানো থামছে না। কম আয়ের প্রবাসীদের মধ্যেই এ প্রবণতা বেশি। তাই হুন্ডি নিরুৎসাহ করতে স্বল্প ও কম রেমিট্যান্স প্রেরণকারীর ফি মওকুফের চিন্তা করছে সরকার। সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির এক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশও দিয়েছেন।

গত ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বল্প রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রবাসী কর্মীদের হুন্ডির পথ থেকে নিরুৎসাহ করতে ফি মওকুফ করে প্রয়োজনে উচ্চ আয়ের প্রবাসীদের প্রদত্ত সুযোগের সঙ্গে তা সমন্বয় করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী চলতি অর্থবছরকে লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তবায়নকাল ধরে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রেরণ ফি মওকুফের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কেমন সে বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেশভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রেরণ খরচ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।

জুলাই-সেপ্টেম্বরভিত্তিক ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমানে ১০০ ডলার রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের গড়ে ৩১৫ টাকা খরচ হয়। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকায় গড়ে খরচ তিন টাকারও বেশি। রেমিট্যান্স প্রেরণে শীর্ষ ১০ দেশের খরচের গড় করে এ তথ্য পাওয়া যায়। তবে দেশভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রেরণের এই খরচ ভিন্নতা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ সবচেয়ে বেশি, পাঁচ টাকা ১১ পয়সা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর এই খরচ চার টাকা ৭৭ পয়সা। আর ইতালি থেকে চার টাকা ৭৩ পয়সা। ওমান থেকে চার টাকা ছয় পয়সা ও কাতার থেকে চার টাকা ১৩ পয়সা।

তবে রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষ দেশ সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স পাঠানোর গড় খরচ এখন তিন টাকা ৫১ পয়সা। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর গড় খরচ সর্বনিম্ন এক টাকা ৯৬ পয়সা। এ ছাড়া মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ তিন টাকা ১৩ পয়সা, কুয়েত থেকে দুই টাকা ২৮ পয়সা, বাহরাইন থেকে দুই টাকা ৯৫ পয়সা, সিঙ্গাপুর থেকে দুই টাকা ৪৬ পয়সা খরচ হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেশি হওয়ার কারণেই ছোট পরিমাণের রেমিট্যান্স হুন্ডি পথে আসছে। বিভিন্ন দেশে হুন্ডি কারবারিদের তৎপরতার কারণেই প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার (প্রবাসী আয়) একটা অংশ দেশে আসছে না। এর পরিবর্তে দেশে আসছে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থ পরিশোধ করে দেওয়ার সংকেত কিংবা মেসেজ সংবলিত নির্দেশনা। সেই নির্দেশনা মেনে ওই হুন্ডি কারবারিদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা প্রবাসীর স্বজনের কাছে সরাসরি কিংবা তাঁর নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পৌঁছে দিচ্ছে। মোবাইলে বিশেষ অ্যাপস ব্যবহার করে এই হুন্ডি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার নাম দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল হুন্ডি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা