kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রথম বছরেই হোঁচট

পাওয়া গেল না প্রতিশ্রুত টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রথম বছরেই হোঁচট

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় এক বছর আগে অনুমোদন পায় শত বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা (ডেল্টা প্ল্যান ২০১৮-২১০০)। এটি বাস্তবায়নে প্রতিবছর বাজেট থেকে যে পরিমাণ টাকা দেওয়ার কথা তাতে প্রথম বছরেই হোঁচট খেল সরকার। কথা ছিল, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিবছর মোট দেশজ আয়ের ২.৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সবশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ডেল্টা প্ল্যান বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাজেট থেকে টাকা দেওয়া হয়েছে মোট দেশজ আয়ের ০.৮৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া টাকার বিশ্লেষণ করে জিইডি দেখেছে, এ বছর এডিপিতে দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকার মধ্যে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নসংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২১ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া এডিপিতে এখন যে এক হাজার ৫৬৪টি প্রকল্প চলমান আছে, তার মধ্যে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নসংক্রান্ত প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে ২৪৮টি। এই ২৪৮টি প্রকল্পে এ বছর এডিপিতে ২১ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। গত বছর ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে অনুমোদিত ডেল্টা প্ল্যানে বলা হয়েছিল, প্রতিবছর বাজেটে মোট দেশজ আয়ের ২.৫ শতাংশ টাকা রাখা হবে এই ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে। সে হিসেবে প্রথম বছরেই প্রতিশ্রুতির চেয়ে বরাদ্দ কম পড়ল মোট দেশজ আয়ের ১.৬৪ শতাংশ। গতকাল বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব-দ্বীপ পরিকল্পনার অগ্রগতি প্রতিবেদন তুলে ধরেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বাস্তবায়ন বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নূরুল আমিন, পানিসম্পদ বিভাগের সচিব কবির বিন আনোয়ার, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পোসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, ভারত, চীন কুয়েতসহ অন্তত ২৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উন্নয়ন সহযোগীদের সামনে উপস্থাপন করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের বাজেটে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নসংক্রান্ত ২৪৮টি প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রকল্প চলমান আছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৭৮টি। মোট বরাদ্দ আছে সর্বোচ্চ ৫৪২৯ কোটি টাকা। কৃষি ও সেচের ৩৩টি প্রকল্পে বরাদ্দ আছে ৯০৮ কোটি টাকা। পরিবহনে ১৫টি প্রকল্পের বিপরীতে টাকা বরাদ্দ আছে এক হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। এসব প্রকল্প ও টাকা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নসংক্রান্ত।

ড. শামসুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, চলতি অর্থবছরে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা মোট জিডিপির ১.২ শতাংশ বাজেট পাওয়ার আশা করেছিলাম। কিন্তু আমরা পেয়েছি ০.৮৬ শতাংশ। তিনি বলেন, এ বছরের বাজেটে আমরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ৬০০ কোটি ডলার পাওয়ার আশা করেছিলাম। কিন্তু পাওয়া গেছে মাত্র ৩০০ কোটি ডলার।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘৮০ বছরের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের প্রচুর টাকার দরকার। উন্নয়ন সহযোগীদের কেউ আমাদের টাকা দিতে চাইলে আমরা তা সানন্দে গ্রহণ করব। তাদের কাছ থেকে টাকা ধার করব। একই সঙ্গে তাদের স্বাগতও জানাব।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আজকের এই বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগীরা আমাদের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়নে আশ্বাস দিয়েছে। তারাও বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় এই পরিকল্পনাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা এই পরিকল্পনাকে সামনে রেখে ভারত, মিয়ানমারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারব। কারণ, তাদের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত নদী আছে।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো দায়ী নয়। দায়ী হলো উন্নত বিশ্ব। তাদের প্রতিশ্রুতি রয়েছে স্বল্পোন্নত ৪৮টি দেশকে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার করে দেবে। কিন্তু তারা সেই প্রতিশ্রুতি রাখছে না। ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা চান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা