kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চাহিদা না থাকায় আমদানি কম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে বাম্পার ফলন এবং আমদানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপের পর থেকে দেশে চালের বাজার চরম মন্দা চলছে। এই অবস্থায় সরকার তো নয়ই; বেসরকারি আমদানিকারকরা চাল আমদানিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন। গত বছর থেকেই চাল আমদানিতে ধস নেমেছে; এখন কেবল সুগন্ধি চাল আমদানি হচ্ছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসে চাল আমদানি হয়েছে মাত্র চার টন। যেখানে বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চাল আমদানি হয়েছিল দুই লাখ পাঁচ হাজার টন। এর আগের অর্থবছরে চাল আমদানি হয়েছিল রেকর্ড পরিমাণ ৩৯ লাখ টন। মূলত সেই বছর হাওরে ব্যাপক বন্যার কারণে উৎপাদনে ধস নামায় চাল আমদানি রেকর্ড ছুঁয়েছিল।

বেসরকারি খাতে চাল আমদানি কমার কারণ হিসেবে শীর্ষ ভোগ্য পণ্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের কর্ণধার আবুল বশর চৌধুরী বলছেন, দুটি কারণে চাল আমদানি হচ্ছে না—একটি হচ্ছে দেশে ভালো ফলন আর অন্যটি হচ্ছে আমদানিতে উচ্চ শুল্ক। এই কারণে গত দেড় বছর ধরেই চালের বাজারে মন্দা চলছে। স্বাভাবিকভাবে চাহিদা না থাকায় আমদানিতে উৎসাহ নেই ব্যবসায়ীদের। এখন শুধু সুগন্ধি চাল আমদানি হচ্ছে। সরকারি হিসাবে, বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চাল আমদানি ছিল রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ৩৯ লাখ টন। এর মধ্যে সরকারি আমদানি ছিল আট লাখ ৮৫ হাজার টন, বেসরকারি খাতে ছিল ৩০ লাখ সাত হাজার টন। মূলত সে বছর হাওর অঞ্চলে ব্যাপক বন্যার কারণে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকার দ্রুত চাল আমদানি করে মজুদ করে রাখে। এরপর প্রতিটি উৎপাদন ভালো হওয়ায় সরকারের গুদামে মজুদও বেড়ে যায়।

দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরে ধানের দাম বাড়লেও চালের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। ব্যবসায়ীদের গোডাউন, মিলে ও দোকানে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল রয়েছে। তবে নতুন ধান বাজারে এলে প্রভাব পড়বে কি না তা নির্ভর করছে সরকার ধান ও চাল কী পরিমাণ ক্রয় করবে এবং কী দামে কিনবে।

চালের বাজার হিসেবে পরিচিত পুলহাট বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে বাজারে বা মিলারদের কাছে মিনিকেট ছাড়া অন্য কোনো ধান নেই। তাই এই ধানের দাম বস্তাপ্রতি (৭০ কেজি) ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দিনাজপুরের চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরে চালের বাজার আপাতত বাড়ার তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় ধানের দাম একটু বাড়তির দিকে। এর ফলে আগামীতে চালের দাম কেজিপ্রতি দুই-এক টাকা বাড়তে পারে। তবে ধানের দাম স্থিতিশীল থাকলে চালের দাম বাড়বে না। চালের প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। মিতালী রাইস এজেন্সির মালিক শামিম খান চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা