kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সেমিনারে বক্তারা

বৈষম্য দূর করা না গেলে ম্লান হবে অর্থনৈতিক সাফল্য

দেশের ৪০% দরিদ্র মানুষের ২.৯৩ গুণ বেশি আয় করে শীর্ষ ধনী ১০% মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ বিস্ময়কর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও একই সঙ্গে বাড়ছে না কর্মসংস্থান ও শ্রমিকের আয়। কমেনি দারিদ্র্যের হার। ফলে ধনী ও দরিদ্রের আয় ও ভোগবৈষম্য দূর করতে না পারলে আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিতে বিস্ময়কর পতন আসতে পারে। দুর্ভিক্ষ ও ত্রাণ বিষয়ে বৈশ্বিক সংগঠন অক্সফামের আয়োজনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান আয়বৈষম্যকে অবিচার হিসেবে চিহ্নিত করেন। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কারণে এত দিন অসমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি দাবি করে আগামী দিনে বৈষম্য নিরসনকে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অক্সফাম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. দিপঙ্কর দত্তের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন অন্বেষণের চেয়ারপারসন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, দেশের ৪০ শতাংশ দরিদ্র মানুষের ২.৯৩ গুণ বেশি আয় করে শীর্ষ ধনী ১০ শতাংশ মানুষ। ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে এটি ছিল ১.৭৩ গুণ। এ হিসাবে গত তিন দশকে দেশে আয়বৈষম্য ৬৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ধনীদের আয়ের বড় একটা অংশ ভোগ ও বিনিয়োগ না হয়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানান তিতুমীর। অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মোট দেশজ উৎপাদনে কৃষি খাতের অবদান কমে আসা, প্রযুক্তির কারণে শ্রমিকের চাকরি ও বেতন কমে যাওয়ার কারণে প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বৈষম্য বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থনৈতিক সূচকে বিস্ময়কর উন্নতি হলেও সামাজিক সূচকে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বৈষম্যের কারণে সামাজিক অনেক সূচকেই পিছিয়ে আছে দেশের মানুষ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্য সাবেক উপদেষ্টা ড. রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক হিসাবে দারিদ্র্য নিরসনে এগিয়ে থাকা দেশের কিছু অঞ্চল সামাজিক হিসাবে অনেক পিছিয়ে আছে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, জিডিপিতে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অবদান ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে গত ৯ বছরে ২৪ শতাংশ ছাড়ালেও এখনো এ খাতটি কর্মসংস্থানের শীর্ষে যেতে পারেনি। অন্যদিকে জিডিপিতে অবদানে পিছিয়ে থাকা কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক নিয়োজিত থাকায় তাদের আয় না বেড়ে উল্টো কমছে। এ কারণে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও কর্মসংস্থান বাড়ছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা