kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দরপতনে রাজস্ব কমেছে পুঁজিবাজারে

রফিকুল ইসলাম   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দরপতনে রাজস্ব কমেছে পুঁজিবাজারে

রাষ্ট্রের ব্যয় নির্বাহে রাজস্ব আদায়ে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে রাজস্ব আহরণে সব খাতে জোর দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে রাজস্বের অন্যতম একটি খাত পুঁজিবাজার থেকে আয় না বেড়ে বরং উল্টো সরকারের রাজস্বপ্রাপ্তি কমছে। ক্রমাগত কমেই চলেছে রাজস্ব আদায়।

ভালো কম্পানি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজার গতিশীল করা না গেলে সরকার সাধ্যের মধ্যে থাকা রাজস্ববঞ্চিত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মূলত পুঁজিবাজার গতিশীল না থাকায় শেয়ার হাতবদল বা কেনাবেচা কমে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব কমে গেছে। বাজার গতিশীল করতে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যত সুফল আসছে না। সরকার বিনিয়োগকারীর শেয়ার লেনদেন থেকে যে রাজস্ব পায়, যা টার্নওভার ট্যাক্স হিসাবে পরিচিত। ব্রোকারেজ হাউস বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কর আদায় করে। আর সেই কর সংগ্রহ করে সরকারের কোষাগারে জমা দেয় স্টক এক্সচেঞ্জ।

রাজস্ব আদায়ের ‘ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স-১৯৮৪-এর ৫৩বিবিবি ও ৫৩এম ধারা অনুযায়ী সরকার পুঁজিবাজার থেকে রাজস্ব পায়। ৫৩বিবিবি ধারায় পুঁজিবাজারে শেয়ার লেনদেন বা টার্নওভার থেকে ০.০৫ শতাংশ রাজস্ব পায় সরকার। ৫৩এম ধারায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের স্পন্সর-উদ্যোক্তার শেয়ার স্থানান্তর থেকে রাজস্ব আসে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যানুযায়ী, বিগত বছরের চেয়ে চলতি বছরে পুঁজিবাজারের টার্নওভার থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হ্রাস পেয়েছে। ২০১৮ সালে যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, চলতি বছরে তা কমেছে। বাজার গতিশীল না হলে সরকারের রাজস্ব কমার মাত্রা আরো বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে পড়তি বা মন্দা বাজারে কম্পানির স্পন্সর-উদ্যোক্তার শেয়ার বিক্রি বাড়ায় এই খাত থেকে শেয়ার আদায় বেড়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে গতিশীল থাকলেও পরে মন্দাবস্থার মধ্যে পড়ে পুঁজিবাজার। মুদ্রানীতি ও আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় মন্দাবস্থার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কয়েক মাস ধরে একটানা পতনের মধ্যেই চলছে পুঁজিবাজার। নগদ লভ্যাংশ উদ্বুদ্ধ করতে বোনাস শেয়ার এবং কম্পানি রিজার্ভ ও রিটেইনড আর্নিংসের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব করা হলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দীর্ঘ আলোচনার পর এ বিষয়টির সমাধান হলে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকটের প্রভাব পড়ে বাজারে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, খেলাপি ঋণ বাড়ায় ব্যাংক খাতে তারল্য সংকটের দেখা দেয় আর এই সংকটের প্রভাব পড়ছে বাজারে। তারল্য প্রবাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সহায়তা দিলেও কার্যত কোনো ফলই আসছে না। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিসি) তারল্য জোগান দেবে সরকার। প্রতিষ্ঠানটির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ডিএসইর কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালের দ্বিতীয়ার্ধ (জুলাই-ডিসেম্বর) ও চলতি বছরের প্রথম তিন মাস শেয়ার লেনদেন বৃদ্ধি পায়। আর টার্নওভার বাড়ায় পুঁজিবাজার থেকে সরকার রাজস্বও পায় অনেক বেশি। তবে চলতি বছরের মার্চ থেকে লেনদেন কমে যাওয়ায় রাজস্বের পরিমাণও কমে গেছে।

সূত্র জানায়, ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্সের ৫৩বিবিবি ধারা অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সরকার পুঁজিবাজার থেকে রাজস্ব পেয়েছে ১৩৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। যার মধ্যে প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আসে ৫৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা আর শেষ ছয় মাসে আসে ৭৮ কোটি ৯ লাখ টাকা। তবে এই খাত থেকে চলতি ২০১৯ সালের ৯ মাসে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৯২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে ৯ মাসে সরকারের এই রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১০০ কোটি টাকার বেশি।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম দুই মাস (জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি) রাজস্ব আদায় কিছুটা ভালো থাকলেও পরবর্তী সময়ে ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে। জানুয়ারি মাসের টার্নওভার থেকে সরকার রাজস্ব পায় ২২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে আসে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। পরবর্তী মাসগুলোতে সরকারের রাজস্ব আদায় সাত কোটিতে নেমে আসে। সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসে সরকারের রাজস্ব এসেছে আট কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

 

ভালো শেয়ারের জোগান বাড়ানো প্রয়োজন

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, সাবেক চেয়ারম্যান, এনবিআর

পুঁজিবাজারে পুঁজির সৃষ্টি হয়, পুঁজি যত বেশি সৃষ্টি ও হস্তান্তর হবে; সরকার তত বেশিই রাজস্ব পাবে। সরকার লাভবান হবে। কিন্তু পুঁজিবাজার গতিশীল না হওয়ায় পুঁজির সৃষ্টি হচ্ছে না; বিধায় রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে সরকার। পুঁজিবাজার সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান হলে সরকারের রাজস্বও বাড়বে। সর্বোপরি অর্থনীতিকে সুস্থ করার পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে ঠিক করা গেলে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা