kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অ্যামচেমের মধ্যাহ্নভোজে ব্যবসায়ীরা

আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসছে না

সরকারের নেওয়া উদ্যোগেও প্রত্যাশিত বিনিয়োগ আসছে না
বড় বিনিয়োগকৃত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ছেড়ে যাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসছে না

অনুষ্ঠানে অ্যামচেমের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম ও মাস্টার কার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল

দেশে ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে কিছুটা উন্নতি হলেও সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতায় বিদেশি বিনিয়োগে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসছে না বলে মনে করছেন দেশের ব্যবসায়ী নেতারা। তাঁরা বলছেন, উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু করতে কোনো কোনো সময় ১৭ থেকে ২৭টি সংস্থার অনুমতি নিতে হয়। এসব আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ফলে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সরকার নেওয়া আকর্ষণীয় উদ্যোগে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ আসছে না। অন্যদিকে বড় বিনিয়োগকৃত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ছেড়ে যাচ্ছে। 

গতকাল বুধবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিত আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ভোজসভায় ‘ইমপ্রুভিং ইজ অব ডুয়িং বিজনেস ইন বাংলাদেশ, দি ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা এ মন্তব্য করেন।

অ্যামচেমের সভাপতি মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, অ্যামচেমের সহসভাপতি ও মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল।

মুক্ত আলোচনায় ব্যবসায়ীরা বলেন, বিডা অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসাকে সহজ করতে কিছু অনুমতি দিলেও ওই সংক্রান্ত কিছু সরকারি আদেশে (এসআরও) জটিলতা তৈরি হয়। ফলে বিডার দেওয়া সুবিধা উদ্যোক্তাদের আর কাজে আসে না।

ব্যবসা সহজীকরণের বাধার কথা উল্লেখ করে তাঁরা আরো বলেন, বিদ্যুৎ খাতে ভালো উন্নতি হয়েছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অবকাঠামো ব্যবস্থা এখনো সন্তোষজনক নয়।  

ব্যবসায়ীরা বলেন, বছরে এক কোটি ১০ লাখ প্রবাসী দেশে রেমিট্যান্স পাঠান ১৬ বিলিয়ন ডলার।  অন্যদিকে ভারতের এক কোটি ৭০ লাখ প্রবাসী পাঠান ৭৯ বিলিয়ন ডলার। অদক্ষতার কারণে আমাদের কর্মীরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের ব্যবসা সহজ করতে বিডার কর্মপরিকল্পনা আছে। সেই অনুসারে আমরা কাজ করছি। এরই মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতিও হয়েছে। আমাদের আশা আমরা আরো ভালো পর্যায়ে যাব।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই অঙ্কে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। তবে এতে অনেক সমস্যা আছে। এসব আমরা চিহ্নিত করেছি। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, সহজে ঋণ পেতে, নিবন্ধন ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ অনেক খাতে সময় ও খরচ কমে এসেছে। এ ছাড়া ওয়ান স্টপ সার্ভিস মাধ্যমে ১৫০টি সেবা দেওয়া হবে।

অ্যামচেমের সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক দেশ, বিশাল যুবশক্তি, ডিজিটাল পাওয়ার এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে বিশ্বের বড় বড় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বীকৃতি দিচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা