kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিমানের যত ড্রিমলাইনার

চার ড্রিমলাইনারসহ ১০ উড়োজাহাজের পেছনে ব্যয় ২১০ কোটি ডলার
চলছে লন্ডন, দাম্মাম, দোহা, সিঙ্গাপুর, আবুধাবি রুটে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিমানের যত ড্রিমলাইনার

রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরেই আছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এই উড়োজাহাজ। দেশের চারটি ড্রিমলাইনারই এখন তাদের বহরে। বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ হালকা যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি হওয়ায় এভিয়েশনশিল্পে সবচেয়ে জ্বালানিসাশ্রয়ী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের তৈরি দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট মাঝারি আকারের এই সুপরিসর উড়োজাহাজটি তিনটি শ্রেণিতে ২৪২ থেকে ৩৩৫ জন পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনে সক্ষম। এটি বোয়িং ৭৬৭-এর চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানিসাশ্রয়ী।

বিমান বাংলাদেশ সূত্র জানায়, চারটি ৭৮৭ ড্রিমলাইনারসহ ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে ২০০৮ সালে বোয়িংয়ের সঙ্গে ২১০ কোটি ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৭ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা) চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ অর্ডার দেওয়া হয়। সর্বশেষ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানের বহরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর যুক্ত হয়। অর্ডার করার পর এগুলোর ডেলিভারি পেতে প্রায় ১১ বছর লেগেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দে ১০টি বিমানের রাখা হয়। এগুলো হলো পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙা প্রভাত, মেঘদূত, ময়ূরপঙ্খী, আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস।

আকাশবীণা : ২০১৮ সালে ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সরবরাহ শুরু করে বোয়িং। ওই বছরের ১৯ আগস্ট দেশে আসে প্রথম ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’। ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ‘আকাশবীণা’ বিমানটি প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এতে বিজনেস ক্লাস ২৪টি ও ইকোনমি আসন ২৪৭টি। বর্তমানে ঢাকা-সিলেট-লন্ডন, ঢাকা-দাম্মাম, ঢাকা-লন্ডন ও ঢাকা-দোহা রুটে ব্যবহার হচ্ছে।

হংসবলাকা : বিমানের দ্বিতীয় ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ঢাকায় এসে পৌঁছায় ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর রাতে। ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর এর উদ্বোধন করা হয়। এতে বিজনেস ক্লাসের সংখ্যা ২৪টি, ইকোনমি আসন ২৪৭টি।

গাঙচিল : বিমানের তৃতীয় ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার যুক্ত হয় এ বছরের ২৫ জুলাই। গত ২২ আগস্ট এটি উদ্বোধন করা হয়। একই দিন বিকেলে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে আবুধাবি যাওয়ার মধ্য দিয়ে উড়োজাহাজটির বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়। এতে বিজনেস ক্লাস ২৪টি ও ইকোনমি আসন ২৪৭টি। এটি ঢাকা-কুয়েত, ঢাকা-আবুধাবি ও ঢাকা-চট্টগ্রাম-দোহা রুটে ব্যবহার হচ্ছে।

রাজহংস : বিমানের ক্রয় চুক্তির সবশেষ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’। এতে বিজনেস ক্লাস ২৪টি ও ইকোনমি আসন ২৪৭টি। এতে রয়েছে জেনারেল ইলেকট্রিকের তৈরি জেট ইঞ্জিন (জিইএনএক্স-১বি৬৭)।

বিমানের চারটি ড্রিমলাইনার টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। এ ছাড়া আধুনিক কিছু বৈশিষ্ট্য যেমন ইলেকট্রিক্যাল ফ্লাইট সিস্টেম, চার প্যানেলবিশিষ্ট উইন্ডশিল্ড, শব্দনিরোধী শেভরন ইত্যাদি বিমানটিকে অন্যন্য করে তুলেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা