kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

টিসিবির খোলাবাজারে ভিড়

পেঁয়াজের ঝাঁজ এখনো কমেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পেঁয়াজের ঝাঁজ এখনো কমেনি

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উল্টো পাশে একটি ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি করে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) এক ডিলার। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, রোদ উপেক্ষা করে ক্রেতারা লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। মহিলাদের লাইনটি একটু ছোট হলেও পুরুষদের লাইনটি ধীরে ধীরে মূল রাস্তার ওপর পড়তে থাকে। ৪৫ টাকা কেজি দরে দুই কেজি করে পেঁয়াজ কেনার জন্যই এই লাইন। জানা গেল সকাল ১০টা থেকেই এভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ক্রেতারা পেঁয়াজ কিনছেন।

এখানকার ডিলার মো. বশির আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম আবার বেড়ে যাওয়ার কারণে গত দু-তিন দিন ধরে ক্রেতার চাপ বেড়েছে।’

শুধু খামারবাড়ি নয়, প্রেস ক্লাবের পাশের টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্রেও একই অবস্থা লক্ষ করা গেছে। কারণ একটাই, তিন দিন ধরে আবার পেঁয়াজের দাম এক শ টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর খুচরা বাজারে কমেনি পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ এখনো ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকায়। প্রেস ক্লাবের সামনে টিসিবির ট্রাক থেকে পেঁয়াজ কিনতে এসে সুমন নামের এক গাড়িচালক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের জন্য পেঁয়াজ টিসিবিই এখন ভরসা। বাইরে থেকে পেঁয়াজ কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তবে খুচরা বাজারে না কমলেও কেজিতে পাঁচ টাকা দাম কমতে দেখা গেছে কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজের আড়তগুলোতে। দুদিন আগে দেশি পেঁয়াজ অনেকেই ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছে, যা গতকাল ৯৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। আমদানি করা মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৮৫ টাকা থেকে কমে ৮০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৮৫-৮৮ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেল, দুদিন আগে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানের কারণে আড়তদাররা কিছুটা দাম কমিয়েছে। কারণ ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যে বড় পার্থক্য দেখলেই অভিযানে জরিমানা করা হয়।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়। সেদিনই দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। কিন্তু বিকল্প হিসেবে মিয়ানমার, মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে দামও কমতে থাকে। কিন্তু দাম কমার সুফল খুব বেশি সময় ভোক্তা পাননি। মিয়ানমার থেকে আনা পেঁয়াজের অর্ধেকই পচা, তুরস্কের পেঁয়াজের চাহিদা কম, দেশি পেঁয়াজের মজুদ কমে আসার কথা বলে আবার সরবরাহ সংকটের কথা জানান ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, সরকারের অনুরোধে ভোগ্য পণ্যের বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো পেঁয়াজ আমদানি করবে। যে কারণে দ্রুতই পেঁয়াজের দাম নাগালে আসার আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা