kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বড় উত্থানে ফিরেছে পুঁজিবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বড় উত্থানে ফিরেছে পুঁজিবাজার

শেয়ার কিনতে বিনিয়োগকারীর সক্রিয়তা বাড়ায় টানা পতন থেকে বড় উত্থানে ফিরেছে পুঁজিবাজার। এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক বেড়েছে ১১০ পয়েন্ট ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেড়েছে ১৪৯ পয়েন্ট। দুই বাজারেই বেশির ভাগ কম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনেও উত্থান ঘটেছে। যদিও চলতি সপ্তাহের দুই দিনে ডিএসই সূচক কমে প্রায় ১০০ পয়েন্ট। আর আগের সপ্তাহে চার কার্যদিবস পতনে ১২৭ পয়েন্ট মূল্যসূচক হ্রাস পায়।

পুঁজিবাজারে ক্রমাগত পতনের মধ্যে গত সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সঙ্গে বৈঠক করে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)। এই বৈঠকে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পতন নিয়ে বিস্তর আলোচনার পর তারল্য জোগান পাওয়ায় আইসিবি শেয়ার কিনতে সক্রিয় হবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসাইন ব্রোকার্সদের অবহিত করেন। তিনি বলেন, বন্ড ইস্যুর ২০০ কোটি টাকা পেয়েছে আইসিবি আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা পেতে চেষ্টা চলছে।’

গতকাল মঙ্গলবার পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হলে শেয়ার কেনার চাপে মূল্যসূচকে বড় উত্থান ঘটে। দিনভর কেনার চাপ থাকায় সূচকে ব্যাপক উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইসিবি বাজারে সক্রিয় হওয়ায় শেয়ারের দাম ও সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার কিনতে সক্রিয় হওয়ায় সূচকে বড় উত্থান হয়েছে। হাত গুটিয়ে বসে না থেকে সবাই সক্রিয় হলে বাজারে বড় উত্থান হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩২৮ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৯৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা আর সূচক কমেছিল ৫০ পয়েন্ট। সেই হিসাবে সূচকের সঙ্গে লেনদেনে উত্থান ঘটেছে। লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১১টি কম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। আর ২৪টি কম্পানির শেয়ারের দাম হ্রাস পেয়েছে। শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টি কম্পানির।

অপর বাজার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আর সূচক বেড়েছে ১৪৯ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। মঙ্গলবার লেনদেন হওয়া ২৩৮টি কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২০১টির, কমেছে ২৪টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩টি কম্পানির শেয়ারের দাম।

১৫ দফা দাবি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ : এদিকে পুঁজিবাজারে টানা পতনের প্রতিবাদে মতিঝিলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন ও কমিশনার হেলাল উদ্দীন নিজামীর পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি ১৫ দফা দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি কমিশনকে ঢেলে সাজানোরও দাবি জানানো হয়।

বাজারে বড় পতন হলে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান বিনিয়োগকারীরা। তবে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে ডিএসই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করায় মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে আখ্যা দিয়ে মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। এ জিডির পর ভীতি ভেঙে গতকাল রাস্তায় বিক্ষোভ দেখালেন বিনিয়োগকারীরা।

 

আইসিবির বড় সাপোর্টে বাজারে উত্থান

মোস্তাক আহমেদ সাদেক

সাবেক সভাপতি, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)

মূলত আইসিবির বড় সাপোর্টে বাজারে বড় উত্থান হয়েছে। আস্থাহীনতা ও প্যানিক থেকে বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল আগে, তবে আমরা বারবারই বলে এসেছি একটা সাপোর্ট প্রয়োজন, কিন্তু হয়নি। তবে ফান্ড পাওয়ায় আইসিবির সক্রিয়তায় বাজারে পতন থেমেছে। এই ধরনের কোনো সাপোর্ট পেলে বাজারের অন্য বিনিয়োগকারীদেরও আস্থা বাড়বে।

বিনিয়োগকারী এক ধরনের অনাস্থা বা আস্থাহীনতা থেকে বাজারবিমুখ হয়। তবে সাপোর্ট পেলে তারাও সক্রিয় হবে।

 

বিনিয়োগকারীরা দিশাহারা দরপতনের কারণে

মিজান-উর রশীদ

সভাপতি, পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ

পতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা দিশাহারা হয়ে পড়েছে। দৃশ্যমান কোনো কারণ না থাকলেও পাতানো খেলায় বাজারকে প্রভাবিত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষা না করে ইস্যুয়ার কম্পানির স্বার্থকে প্রাধ্যান্য দিচ্ছে। ক্রমাগত পতনেও কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি কমিশন। আর কমিশনের কর্মকর্তা মিলে বাজারকে এক গভীর অন্ধকারে নিয়ে যাচ্ছে, যাতে বিনিয়োগকারী পুঁজি হারাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা