kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এশিয়ায় অশুল্ক বাধা

বেশি প্রতিবন্ধকতায় বাংলাদেশ

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেশি প্রতিবন্ধকতায় বাংলাদেশ

বর্তমান বিশ্বে বাণিজ্যপ্রবাহে শুল্ক বাধার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে অশুল্ক বাধা বা নন-ট্যারিফ মিজার্স (এনটিএম)। ফলে এটি এখন বাংলাদেশসহ এশিয়ার ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য নীতি-নির্ধারকদের জন্য উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে উঠেছে।

গতকাল সোমবার প্রকাশিত ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট, ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯১ শতাংশের বেশি কম্পানি অশুল্ক বাধার অভিযোগ করে। যা এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। এর কারণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য না থাকা। বিশেষ করে এ দেশ গার্মেন্ট ও টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানিতে বেশি নির্ভরশীল। এ অঞ্চলে গড়ে অশুল্ক বাধা ৫৭ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের পরের অবস্থানে রয়েছে নেপাল ও শ্রীলঙ্কা।

অশুল্ক বাধায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোও এটি প্রয়োগ করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পণ্যের চালানপূর্ববর্তী পরীক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্য সুরক্ষামূলক, মূল্য নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি সম্পর্কিতসহ আরো বেশ কিছু অশুল্ক বাধা প্রয়োগের ক্ষেত্রে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ২৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ২২তম অবস্থানে রয়েছে। অশুল্ক বাধা প্রয়োগে সবচেয়ে এগিয়ে চীন, দ্বিতীয় অবস্থানে নিউজিল্যান্ড, তৃতীয় উত্তর কোরিয়া, চতুর্থ অস্ট্রেলিয়া এবং পঞ্চম থাইল্যান্ড। এ তালিকায় ভারতের অবস্থান ১৪তম।

গতকাল জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আংকটাড) এবং এশিয়া ও প্যাসিফিকবিষয়ক জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (এসক্যাপ) যৌথভাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, গত দুই দশকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে শুল্ক প্রয়োগ অর্ধেকে নেমে এসেছে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে অশুল্ক বাধা বা নীতিগত নিয়ন্ত্রণ। যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বলা হয়, বর্তমানে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ৫৮ শতাংশ বাণিজ্যে এ অশুল্ক বাধার প্রভাব পড়ছে। এটি ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাণিজ্যিক হাতিয়ার হিসেবে এর জনপ্রিয়তা। যেমন সরকারের ক্রয়প্রক্রিয়া সীমাবদ্ধতা আরোপ, রপ্তানিতে ভর্তুকি, আমদানিতে কড়াকড়ি এবং বহুমুখী নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আমদানি ও রপ্তানি বন্ধ করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে জটিল ও অস্বচ্ছ আইন-কানুন মেনে চলতে গিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অশুল্ক বাধা নীতিগত হওয়ায় তা অনেক ক্ষেত্রে বৈধ। বেশির ভাগ বাধাই কৌশলগত। যেমন খাদ্যপণ্যে স্বাস্থ্যগত নিয়ম-কানুন। এসব অশুল্ক বাধায় গড়ে হারাতে হয় জিডিপির ১.৬ শতাংশ। বৈশ্বিকভাবে প্রায় ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু এতে মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষাও হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে। আবার নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে বাণিজ্যও বাড়তে পারে।

ইএসসিএপির নির্বাহী সেক্রেটারি অরমিদা আলিসজাহবানা বলেন, শুল্ক বাধার চেয়ে অশুল্ক বাধায় বাণিজ্যের খরচ দ্বিগুণেরও বেশি। তবে এটি টেকসই উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা