kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাংলাদেশ ব্যাংককে আমানতকারীর অভিযোগ

জমা টাকা মেরে ব্যবসা গোছাচ্ছেন পিপলস লিজিংয়ের পরিচালকরা

ডিসেম্বরের মধ্যে টাকা ফেরতের দাবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক ৫ আমানতকারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জমা টাকা মেরে ব্যবসা গোছাচ্ছেন পিপলস লিজিংয়ের পরিচালকরা

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন আমানতকারী সামিয়া বিনতে মাহবুবসহ অন্যরা

অবসায়ন হওয়া পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেসের  পরিচালকরা আমানতকারীদের টাকা মেরে নিজেদের ব্যবসা গোছাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির আমানতকারীরা।

তাঁরা বলেন, আমানতকারীদের টাকা আত্মসাৎ করে চট্টগ্রামে হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু এবং বান্দরবানে রিসোর্ট চালাচ্ছেন বর্তমান পরিচালকদের কেউ কেউ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি তাঁদের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়নি। আমানতকারীরা দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন উল্লেখ করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা বৈঠক করেন পিপলস লিজিংয়ের পাঁচজন আমানতকারী। বৈঠক শেষে তাঁরা সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

পাঁচ আমানতকারী হলেন সামিয়া বিনতে মাহবুব, কামাল আহমেদ, রানা ঘোষ, প্রশান্ত কুমার দাস ও আনোয়ারুল হক। বৈঠকে গভর্নর ফজলে কবির ছাড়াও ব্যাংকিং রিফর্ম অ্যাডভাইজার এস কে সুর চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম এবং উপমহাব্যবস্থাপক ও পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ক মো. আসাদুজ্জামান খান প্রমুখ।

বৈঠক শেষে আমানতকারী সামিয়া বিনতে মাহবুব সাংবাকিদের বলেন, ‘পিপলস লিজিংয়ের বর্তমান পরিচালকরা আমাদের টাকা মেরে দিয়েছেন। এর মধ্যে পরিচালক উজ্জ্বল কুমার নন্দী আমানতকারীদের টাকা মেরে চট্টগ্রামে হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু খুলেছেন। আরেকজন পরিচালক অং মং চং আমানতকারীদের টাকা মেরে বান্দরবানে বড় রিসোর্ট চালাচ্ছেন। তাঁদের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণপত্র সব জায়গায় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়নি। অথচ পিপলসের পরিচালকরাই সব টাকা সরিয়ে নিয়েছেন। আমানতকারীদের টাকা নিয়ে তাঁরা আরাম-আয়েশে জীবন যাপন করছেন। আর আমরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি টাকা ফেরত পাওয়ার আশায়।’ তিনি আরো বলেন, পিপলস লিজিং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনপ্রাপ্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি ছয় মাস পর পর কিংবা বছর বছর অডিট হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিল। তারা কিভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে এই অনিয়মগুলো আগে ধরা পড়েনি কেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকেও আমরা তা তুলে ধরেছি।’

আমানতকারী আনোয়ারুল হক বলেন, ‘গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে আমাদের প্রধান দাবি ছিল আমরা কবে নাগাদ টকা ফেরত পাচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কী ব্যবস্থা নিয়েছে—এ বিষয়গুলো আমরা বৈঠকে তুলে ধরেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের আশ্বস্ত করেছে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে তারা প্রয়েজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তবে আমানতকারীরা কবে নাগাদ টাকা ফেরত পাবেন, তার কোনো সময়সীমা দিতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। যদিও আমাদের এ বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে যে যদি এর মধ্যে ২০ কোটি টাকাও উদ্ধার করতে সক্ষম হই, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই আমরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সে টাকা বিতরণ করে দেব। আমরা আশা করছি, দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে অডিট কার্যক্রম শেষ হলেই আমরা টাকা ফেরত পাব।’ আমানতকারীরা আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন গভর্নর। একটি অডিট প্রতিষ্ঠানকে পিপলস লিজিংয়ের খুঁটিনাটি দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বেঁধে দেওয়া দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে তাদের ওপর। তাদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে আমানতের টাকা ফেরত চেয়েছি।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ও পিপলসের অবসায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘পিপলস লিজিংয়ের টাকা কোনো পরিচালক আত্মসাৎ করেছেন কি না তা স্পেশাল অডিট করার পর বোঝা যাবে। আমানতকারীরা পরিচালকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন সেটা আমার শুনেছি। এই অভিযোগ অডিটে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তাই অডিট কার্যক্রম শেষ হলে যাঁরা দায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা