kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

খাতুনগঞ্জে এক দিনেই এলো ৩৫০ টন পেঁয়াজ

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে এখন একচেটিয়া ব্যবসা করছে মিয়ানমারের পেঁয়াজ। গতকাল রবিবার এক দিনেই এই খাতুনগঞ্জে ঢুকেছে সাড়ে তিন শ টন পেঁয়াজ; মিয়ানমারের পেঁয়াজ আসা শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড। একচেটিয়া দখলে থাকার পরও বাজারে আবারও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

গত বৃহস্পতিবার খাতুনগঞ্জের আড়তে মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৫৮ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হলেও গতকাল রবিবার বিক্রি হয়েছে কেজি ৭৫ টাকায়। আর আগে থাকা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকায়; গত বৃহস্পতিবার এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৬০ টাকায়।

পেঁয়াজের আড়তদাররা বলছেন, বাজারে একচেটিয়া মিয়ানমারের পেঁয়াজ, কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে সেই পেঁয়াজে পচা পড়ছে। ভালো পেঁয়াজ আসার পর টেকনাফ স্থলবন্দরের অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে পেঁয়াজ পচছে। এক বস্তায় চার-পাঁচ কেজি পেঁয়াজ পচা পড়ছে। ফলে সেই ক্ষতি পোষাতেই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে পেঁয়াজ। দাম বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের আড়তদার আবসার উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে বুধ ও বৃহস্পতিবার আসা মিয়ানমারের পেঁয়াজ টেকনাফ স্থলবন্দরে আটকা পড়েছে। তিন দিন অপেক্ষার পর সেই পেঁয়াজ বাজারে আসছে কিন্তু বেশির ভাগ পেঁয়াজই পচা।’

তিনি বলেন, এক ট্রাকে চার শ বস্তা পেঁয়াজের মধ্যে দেড় শ বস্তাও ভালো পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আমদানিকারক-ব্যবসায়ীরা পথে বসেছেন। কারণ সব পেঁয়াজই একই দামে কেনা, কিন্তু ভালো পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৬৮ থেকে ৭০ টাকায়। আর পচে যাওয়া পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৫ থেকে ৩৫ টাকায়। ভালো থাকা পেঁয়াজ এক শ টাকা দামে বিক্রি করলেও ক্ষতি পোষানো যাবে না। এক ট্রাকে এক-তৃতীয়াংশ খারাপ হলেও বাজারের এই অবস্থা হতো না। আরেক আড়তদার মোহাম্মদ ইদ্রিস কালের কণ্ঠকে বলেন, চরম সংকটের মধ্যে মিয়ানমারের পেঁয়াজ আসা ছিল আমাদের জন্য অনেক স্বস্তির। টেকনাফ স্থলবন্দরে দ্রুত পণ্য ছাড় না করলে আর এই অবস্থা চলতে থাকলে বাজার ধরে রাখা কঠিন হবে। কারণ এখন বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ নেই, মিসরের পেঁয়াজ আসছে কিন্তু খাতুনগঞ্জে নেই। ফলে ভালো বিকল্প হিসেবে মিয়ানমারই এখন ভরসা।  খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বুধ-বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাজার ভালোই ছিল; আড়তে সব পেঁয়াজ কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে ছিল। কিন্তু শনিবার থেকেই বাজারে এই দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। মূলত মিয়ানমার থেকে ভালো পেঁয়াজ আসছে। টেকনাফ স্থলবন্দরেই খালাস করতেই বাড়তি সময় লাগছে। অথচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পেঁয়াজের চালান দ্রুত খালাস করতে সমুদ্র ও স্থলবন্দরে মাঠ পর্যায়ে ১০ কর্মকর্তা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। পেঁয়াজ আমদানিকারক জারিফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক মনজুর মোরশেদ বলেন, মাত্র এক দিন এক তদারক কর্মকর্তাকে দেখা গিয়েছিল এরপর আর দেখা মেলেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা