kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আইসিসিবিতে পর্দা নামল প্রিন্টটেকের

ডিজিটালের প্রভাবেও মুদ্রণ শিল্পে ভিন্ন সম্ভাবনা!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিজিটালের প্রভাবেও মুদ্রণ শিল্পে ভিন্ন সম্ভাবনা!

প্রদর্শনীতে বিভিন্ন ধরনের প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং শিল্প সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পণ্য দেখছেন দর্শনার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল মাধ্যমের দাপট চলছে। তবে এর মধ্যেও নতুন সম্ভাবনা দেখছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। সনাতনি কিছু খাতে মুদ্রণসামগ্রীর ব্যবহার কমলেও নিত্যনতুন ক্ষেত্রও সৃষ্টি হচ্ছে।

আর সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আসা অংশগ্রহণকারীরা এমনটাই জানালেন। সেখানে তিন দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘প্রিন্টেক বাংলাদেশ ২০১৯’-এর সমাপনী দিনে কথা হয় বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে দেশে মুদ্রণশিল্পের বাজারের আকার ১৭ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবছর প্রবৃদ্ধি হচ্ছে দুই অঙ্কের। তবে সনাতনি কিছু ক্ষেত্রে মুদ্রণশিল্পের বাজার সংকুচিত হলেও নতুন নতুন ক্ষেত্রে বাজার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিসহ পরিবেশবান্ধব নানা খাতে কাগজের ব্যবহার বাড়ছে। কাজেই আমরা কাগজের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।’

প্রদর্শনীতে এসেছিলেন অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অব মাস্টার প্রিন্টার্সের চেয়ারম্যান প্রফেসর কামাল চোপড়া। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশে মুদ্রণশিল্পের একটি বড় বাজার। এই বাজারে আরো প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। তবে এ জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, থ্রিডি প্রিন্টিংসহ নানা প্রযুক্তির আবির্ভাব হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে।’

আস্ক ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প সমিতির (পিআইএবি) যৌথ উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার এই প্রদর্শনী শুরু হয়। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন ধরনের প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং শিল্পসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্ক্রিনটেক্স বাংলাদেশ বিষয়ে আরেকটি প্রদর্শনীতে স্ক্রিন, ডিজিটাল, টেক্সটাইল প্রিন্টিংয়ের ওপর প্রি-প্রেস, ইন-প্রেস, পোস্ট প্রেস, ফিনিশিং, কনভার্টিং, সাইনেজ কাগজ, প্যাকেজিং, সফটওয়্যার, কালি, মেশিন স্পেয়ার্স, কেমিক্যাল ও এ সম্পর্কিত প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে ইন্ডিয়ান প্রিন্টিং প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যালায়েড মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (আইপিএএমএ) এবং স্ক্রিন প্রিন্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এসপিআইএ) থেকে প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ট্রেডিশনাল প্রিন্টিংয়ের কাজ কিছুটা কমলেও ফার্মাসিউটিক্যালস, চিংড়ি খাত, গার্মেন্ট অ্যাকসেসরিজে কাজ অনেক বেড়েছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরে বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিবছর আমাদের ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকছে।’

বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প সমিতির চেয়ারম্যান শহীদ সেরনিয়াবাত জানান, ‘মুদ্রণশিল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষা প্রসারে এ ধরনের প্রদর্শনী এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে দেশে প্রায় সাত হাজার মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যার মধ্যে প্রায় দুই হাজার প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তির ব্যবহারে আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচ্য।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা