kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি আয় ২২ কোটি ডলার

প্রণোদনায় রপ্তানি সম্ভাবনা জাগাচ্ছে পাটপণ্য

পাটপণ্য রপ্তানিতে ৭ থেকে ২০ শতাংশ রপ্তানি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে
আরো ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের আছে

এম সায়েম টিপু   

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রণোদনায় রপ্তানি সম্ভাবনা জাগাচ্ছে পাটপণ্য

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে একসময় গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল সোনালী আঁশ পাটের। কিন্তু সেই পাট খাতের শ্রমিকদের এখন বেহাল অবস্থা। সরকারের নীতি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এ খাতের অতীত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে। আশার বিষয় চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এ খাত রপ্তানিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

সম্প্রতি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে পুরো রপ্তানি খাতে নেতিবাচক ভূমিকা রাখলেও পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) জুলাই-সেপ্টেম্বরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ২২ কোটি ডলার। এই আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক কোটি ২৪ লাখ ডলার বেশি। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয় ২১ কোটি ৬৮ লাখ ডলার।

এ সময় কাঁচা পাট রপ্তানি করে আয় হয়েছে তিন কোটি ৩২ লাখ ডলার। পাটের সুতা থেকে আয় হয়েছে ১৩ কোটি ৭২ লাখ ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি করে আয় হয়েছে দুই কোটি ৫৪ লাখ ডলার। অন্যান্য খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে দুই কোটি ৪৯ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যে রপ্তানি আয়ে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই আয় হয় ৮১ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে রপ্তানি আয় হয় সাত কোটি ডলার। জুলাই-আগস্ট মাসে রপ্তানি আয় হয় ১৩ কোটি ডলার।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বিশ্বে গড়ে ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদন হয় ৩২ লাখ টন। এর ২৫ ভাগের বেশি ৮.৩৩ লাখ মেট্রিক টন হয় বাংলাদেশে, যা সারা বিশ্বের মোট পাট উৎপাদনের ২৬.০২ শতাংশ

এ ছাড়া খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে শপিং ব্যাগসহ অন্যান্য বহুমুখী পাটপণ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের প্রায় ৩২টি দেশ প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আওতাভুক্ত প্রায় ২৮টি দেশ আগামী বছর জানুয়ারি থেকে প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। তবে এই বিশাল সম্ভাবনার জায়গায় কাঁচামালের অভাবে ও দামের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ভারত থেকে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ।

এমন সম্ভাবনাময় খাতটিকে এগিয়ে নিতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে ক্রিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) পরিচালক মো. রাশেদুল করিম মুন্না কালের কণ্ঠকে জানান, সম্প্রতি সরকার স্থানীয় বাজারে বহুমুখী পাটপণ্য বাজারজাতকরণে ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর ও শুল্ক রহিত করেছে। এ ছাড়া পাটপণ্য রপ্তানিতে ৭ থেকে ২০ শতাংশ রপ্তানি প্রণোদনা দেওয়া হয়। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে পাট ও পাটজাত পণ্যে রপ্তানিতে আরো ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ার।

এদিকে পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকার পাটপণ্য বহুমুখীকরণে এবং উদ্যোক্তাদের কাঁচামাল সরবরাহ ও সহযোগিতায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে। পাটপণ্য উন্নয়নে বর্তমান সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন পাটকল স্থাপনে কী ধরনের কর্ম কৌশল হতে পারে সেই ব্যাপারেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা