kalerkantho

সোমবার । ২৯ আষাঢ় ১৪২৭। ১৩ জুলাই ২০২০। ২১ জিলকদ ১৪৪১

উদ্যোক্তা

স্বপনের কোয়েলরাজ্যে ২৫ হাজার পাখি

শফিক আদনান, কিশোরগঞ্জ   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বপনের কোয়েলরাজ্যে ২৫ হাজার পাখি

ইনকিউবেটরে পরীক্ষা করছে স্বপন। ছবি : কালের কণ্ঠ

স্বপন মিয়ার বাড়িটি যেন এক কোয়েলরাজ্য। কিশোরগঞ্জ শহরতলির কাটাখালী গ্রামের এই বাড়িতে পাখির কিচিরমিচির শব্দে কান রাখা দায়। এই পাখিদের সঙ্গেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বাস করেন তিনি। কোয়েল লালন-পালন ও বিক্রি করে তিনি বদলে দিয়েছেন নিজের ভাগ্য। তাঁকে দেখে অনুপ্রাণীত হয়েছেন আরো অনেকে। তবে শুরুটা এত সহজ ছিল না। পোশাক কারখানার কাজ ছেড়ে পরে কয়েকটি পেশা বদলে অবশেষে কোয়েল পালনে থিতু হয়েছেন তিনি। ধীরে ধীরে গড়ে তুললেন বিশাল খামার। ইন্টারনেট ঘেঁটে নিজেই তৈরি করছেন ডিম ফোটানোর ইনকিউভেটর। এই যন্ত্রে জন্ম নিচ্ছে হাজার হাজার কোয়েলছানা।

স্বপন জানান, কোয়েলের জীবনাচরণ রপ্ত করে তিনি গড়ে তুললেন বিশাল খামার। তাঁর খামারে ছুটে আসছেন জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, বৃহত্তর সিলেট, নরসিংদী আর নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন জেলার খামারিরা। কিনে নিয়ে যাচ্ছেন কোয়েলের এক দিন বয়সী বাচ্চা। মাত্র দেড় বছরের উদ্যোগে স্বপনের এখন মাসে আয় হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। নিজের টাকায় জায়গাজমি কিনে খামারের আয়তন বাড়িয়ে চলেছেন।

কোয়েলের খামারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে স্বপন চারটি শেডে কোয়েলের চাষ করছেন। একটিতে ইনকিউভেটর বসিয়ে তাতে বৈদ্যুতিক বাল্বের সাহায্যে কয়েক হাজার ডিমে তা দিচ্ছেন। একটি শেডে নতুন জন্ম নেওয়া কয়েক হাজার বাচ্চার পরিচর্যা করছেন। একটিতে দেড় হাজার মা কোয়েল ডিম দিচ্ছে। অন্যটিতে কয়েক হাজার পরিণত বয়সের কোয়েল রয়েছে। বর্তমানে এই খামারে ২৫ হাজার কোয়েল রয়েছে।

স্বপন জানান, তাঁর খামারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নিজস্ব জেনারেটরও রয়েছে। তাঁর সাফল্য দেখে এলাকার অনেকে কোয়েলের খামার গড়তে চাচ্ছেন। তবে স্বপনের ইচ্ছা খামারটি আরো বড় করার। এর জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ পেলে তিনি ব্যবসা আরো বাড়াতে পারবেন বলে জানান। স্বপনের বাড়িতে প্লাস্টিকের খাঁচা রয়েছে। এসব খাঁচায় করে বাচ্চা সরবরাহ করা হয়। কোয়েল দেড় মাস বয়স থেকেই ডিম দিতে থাকে। তবে দুই মাস বয়স থেকে নিয়মিত পরবর্তী দেড় বছর পর্যন্ত ডিম দেয়। তাতে কোলেসটেরলের মাত্রা প্রায় শূন্য। প্রতি ১০০টি ডিম ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। পরিণত বয়সের কোয়েল জোড়া বিক্রি হয় ১০০ টাকায়। ১০টি কোয়েলে এক কেজি মাংস হয় বলে জানা গেছে। মাংসও বেশ উপাদেয় ও সুস্বাদু। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান জানান, কোয়েল মূলত জাপান থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। আর কোয়েল লালনের বড় সুবিধা হচ্ছে এর মৃত্যুঝুঁকি নেই বললেই চলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা