kalerkantho

সোমবার । ২৯ আষাঢ় ১৪২৭। ১৩ জুলাই ২০২০। ২১ জিলকদ ১৪৪১

আধুনিকায়ন হচ্ছে বরিশাল বিমানবন্দর

সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আধুনিকায়ন হচ্ছে বরিশাল বিমানবন্দর

বরিশাল বিমানবন্দর আধুনিকায়নের কাজ চলছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে ১৯৮৫ সালে নির্মাণ করা হয় বরিশাল বিমানবন্দর। বিভিন্ন জটিলতার কারণে তখন চালু না হলেও ১৯৯৫ সালের ১৬ জুলাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী পরিবহনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে বি গ্রেডে উত্তীর্ণ হচ্ছে বরিশাল বিমানবন্দর। বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ বাড়ানোর সঙ্গে রাত্রিকালীন ফ্লাইট পরিচালনার জন্য স্থাপন করা হবে বাতি। ফলে বিশালাকৃতির উড়োজাহাজও নিরাপদে অবতরণ এবং উড্ডয়ন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে এ বিমানবন্দরে ফ্লাইটের সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি আকাশপথে যাত্রীদের সংখ্যাও বাড়বে। পাশাপাশি বাড়বে বরিশাল বিমানবন্দরের আয়। বরিশাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ৩৪ বছর আগে নির্মিত এই বিমানবন্দরে বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান, বেসরকারি বিভিন্ন এয়ারলাইনস সংস্থা মিলিয়ে সপ্তাহে ১৫টি ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। আর এর সবই বরিশাল-ঢাকা রুটে। যার মধ্যে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার বিমান বাংলাদেশ সপ্তাহে পাঁচটি, নভো এয়ার সাতটি ও ইউএস-বাংলা তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যেখানে বছরখানেক আগেও সপ্তাহে চার-পাঁচ দিন মাত্র সাত-আটটি ফ্লাইট পরিচালিত হতো। দিন দিন এ এয়ারপোর্টে যাত্রীসংখ্যা বাড়ছে।

সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১৬০ দশমিক ৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ছয় হাজার ফুট এবং প্রস্থ ১০০ ফুট। যেখানে এটিআর ৭২-৫০০, ড্যাশ-৮-কিউ-৪০০ মডেলের মতো উড়োজাহাজ চলাচল করছে। যেগুলো ৬৫-৭২ জন যাত্রী বহনে সক্ষম।

বরিশাল বিমানবন্দরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র কালের কণ্ঠকে বলেন, বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ের বর্তমানে যে দৈর্ঘ্য রয়েছে সেটি মূলত ‘সি’ গ্রেডের। আর সেখান থেকে রানওয়েকে ‘বি’ গ্রেড অর্থাৎ আট হাজার ফুট দৈর্ঘ্য ও দেড় শ ফুট প্রস্থ করা হবে। যার দাপ্তরিক কাজ প্রায় শেষের পথে। আর এ কাজের সঙ্গেই রানওয়েতে প্রতি ৬০ ফুট পর পর বাতি লাগানো হবে। যার সহায়তায় বিমানবন্দরটিতে রাত্রিকালীন ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তবে বিমানবন্দর সূত্র আরো জানায়, এ ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারের আরো আধুনিকায়ন করা দরকার, সীমানাপ্রাচীরের নিচের অংশে মাটি ভরাট করে অবাধ প্রবেশ বন্ধসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে। এদিকে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বিমানবন্দরে রাত্রিকালীন ফ্লাইট চালু করা।

এ বিষয়ে বরিশালের বিশিষ্টজনরা মনে করেন পায়রা বন্দর, পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা, বরিশাল ও পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বরিশালে দিন দিন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বাড়ছে। আর সময় স্বল্পতার কারণে মানুষ আকাশপথকেই বেছে নেবে। এদিকে বরিশাল-ঢাকা রুটে এখন যেসব এয়ারলাইনসগুলো নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে, তেমনি যাত্রীসংখ্যাও বাড়ছে। তাই বরিশাল অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ বিমানবন্দরটিতে রাত্রিকালীন ফ্লাইটসহ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড্ডয়ন-অবতরণের ব্যবস্থা চালুর দাবি বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের। রাত্রিকালীন ফ্লাইটের ব্যবস্থা চালু হলে বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ এ বিমানবন্দরটিতে আরো যাত্রী সমাগম ঘটবে। যাতে উন্মোচন হবে নতুন নতুন ব্যবসার দ্বার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা