kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

চুনারুঘাটে সবজি ও চারা উৎপাদনে বড় সাফল্য

শাহ ফখরুজ্জামান, হবিগঞ্জ   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুনারুঘাটে সবজি ও চারা উৎপাদনে বড় সাফল্য

বালিয়াড়ী গ্রামের এক কৃষক সবজি নার্সারি পরিচর্যা করছেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

২০ বছর আগে বালিয়াড়ী গ্রামের কৃষকরা বিকল্প কর্মসংস্থানের আশায় গড়ে তোলে সবজির নার্সারি। যদিও হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। তবে সবজি চাষের মাধ্যমে কৃষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন শুরু হয়। সবজির চারা বিক্রি করে এখন অনেকেই হয়েছে স্বাবলম্বী। বর্তমানে ওই গ্রামে গেল চোখে পড়বে সাদা পলিথিনে ঢাকা বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শুধু নার্সারি আর নার্সারি। যার সংখ্যা ১২টি।

বালিয়াড়ী গ্রামের আব্দুল আলী নামের এক কৃষক বালিয়াড়ী গ্রামে শুরু করেছিলেন সবজির নার্সারি। কোনো প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রথম দিকে তিনি সফল হননি। তবে বারবার চেষ্টার পর একসময় তিনি সফল হন সবজির চারা উৎপাদনে। এখন সেখানে ১০-১২ জন কৃষক গড়ে তুলেছেন সবজির নার্সারি। এলাকার চাহিদা মেটানোর পর অন্যান্য জেলা থেকেও লোকজন আসেন এখান থেকে চারা কিনতে।

আব্দুল আলী ৩৬ শতক জমিতে নার্সারি গড়ে তুলেছেন। নাম আল আমিন নার্সারি। তিনি বলেন, শুরুতে অনেক লোকসান হয়েছে। তার পরও চেষ্টা চালিয়ে যাই। পরে আমি সফল হই। আমার নার্সারির চারা নিজের সাত বিঘা জমিতে ব্যবহার করার পাশাপাশি বিক্রি করি। আমার পরে আরো অনেকেই নার্সারি করেছেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমার স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যসংখ্যা আট। এই নার্সারি আর সবজি আবাদ করেই আমার বাচ্চাদের লেখাপড়া এবং সংসারের ব্যয় নির্বাহ করি। এই ব্যয়ের পরও বছরে আমার দুই থেকে তিন লাখ টাকা মুনাফা হয়।’

নবিউর রহমান নামের আরেক কৃষক জানান, তিনি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি নার্সারি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই কাজ শুরু করেছেন। নার্সারি তৈরির জন্য জৈবিক সার ব্যবহার করেন তিনি। কুমিল্লা ও শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে উন্নতমানের বীজ এনে চারা উৎপাদন করেন।

তিনি জানান, ‘আমরা ভাদ্র মাসে নার্সারির কাজ শুরু করে আর জ্যৈষ্ঠ মাসে গিয়ে মৌসুম শেষ হয়। এক মৌসুমে সবজির চারা চার দফা উৎপাদন করা হয়। প্রথম দফায় আগাম সবজির চারা উৎপাদন করা হয়। এতে লাভ পাওয়া যায় বেশি। বালিয়াড়ী গ্রামে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, শালগম, টমেটো, বেগুন, মরিচ, লাউ পেঁপেসহ বিভিন্ন জাতের সবজির চারা উৎপাদন করা হয়। আবার এগুলোর মাঝে বিভিন্ন জাত রয়েছে। যেমন টমেটো আছে ছয় প্রকার, মরিচ আট প্রকার, ফুলকপি চার প্রকার, লাউ চার প্রকার।

বালিয়াড়ী গ্রামের বিলাল মিয়া বলেন, বালিয়াড়ী গ্রামের অধিকাংশ নার্সারির মালিক জমি বর্গা নিয়ে কাজ করেন।

চুনারুঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন সরকার বলেন, সবজির নার্সারি লাভজনক ব্যবসা। যারা এ ধরনের নার্সারি করেছে আমরা তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করি। বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে পরামর্শ দিই। নতুন নতুন জাত ও আগাম সবজির চারা উৎপাদনে পরামর্শ দিয়ে থাকি। তাদের তালিকা আমাদের কাছে আছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা