kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

এলডাব্লিউজি সনদ পেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সাভার চামড়া শিল্প নগরী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এলডাব্লিউজি সনদ পেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সাভার চামড়া শিল্প নগরী

সভায় উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এমপিসহ অন্যরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডাব্লিউজি) সনদ পেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সাভার চামড়া শিল্পনগরী। শিল্প মন্ত্রণালয় আশা করছে, আগামী বছরের শুরুর দিকে চামড়াশিল্পের জন্য বাংলাদেশ এলডাব্লিউজি সনদ অর্জনে সক্ষম হবে। সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারসহ (সিইটিপি) এ প্রকল্পের সার্বিক বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনাসভায় এ কথা জানানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন সভাপতিত্ব করেন।

সভায় সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এমপি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপিসহ অন্যান্য সব কাজ সম্পন্ন হবে। এ শিল্পনগরীর সব কাজ শেষ করার পর এলডাব্লিউজি সনদ অর্জনের লক্ষ্যে নিরীক্ষার আমন্ত্রণ জানানো হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘যেভাবে চামড়া শিল্পনগরীর কাজ এগোচ্ছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা যদি এলডাব্লিউজি সনদটা পেয়ে যাই তাহলে আমাদের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে যে সমস্যা হচ্ছে তা সমাধান হয়ে যাবে এবং আমরা তখন এ খাত থেকে বড় ধরনের রপ্তানি করতে পারব।’

সভায় শিল্পসচিব মো. আবদুল হালিম, বিসিকের চেয়ারম্যান মো. মোশ্তাক হাসান এনডিসি, বুয়েটের টিম লিডার অধ্যাপক ড. মো. দেলোয়ার হোসেন, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ, বাংলাদেশ ফিনিশ্ড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন উপস্থিত ছিলেন।

জানানো হয়, এরই মধ্যে সিইটিপির কাজ শতকরা ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সিইটিপির চারটি মডিউল চালু রয়েছে এবং এগুলো বর্জ্য পরিশোধনের কাজ করছে। সিইটিপির কার্যক্রম শতভাগ সম্পন্ন করার জন্য যন্ত্রপাতিসহ আমদানিযোগ্য মালপত্র এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে এগুলো স্থাপনের কাজ চলছে। সিইটিপির ডি-ওয়াটারিং হাউসের ৯টি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এগুলোতে স্ন্যাজ কেক তৈরি হচ্ছে। বাকি ছয়টি ইউনিটের কাজ ২৫ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে।

সভায় আরো জানানো হয়, সিইটিপির ক্রোম সেপারেশনের লক্ষ্যে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সিইটিপিতে স্থাপিত সাতটি জেনারেটরের সবকয়টি সচল রয়েছে এবং সব পাম্প চালু আছে। এর সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরি ও অটোমেশনের কাজ নভেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে।

একই সঙ্গে এ শিল্পনগরীতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দুটি ডাম্পিং ইয়ার্ড স্থাপনের লক্ষ্যে ড্রয়িং ও ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি নির্মাণের জন্য আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এ ছাড়া সিইটিপির অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সভায় এলডাব্লিউজি সনদ অর্জনের লক্ষ্যে এখন থেকে অডিট পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বাই-প্রডাক্ট উৎপাদনকারীদের অনুকূলে জায়গা বরাদ্দ দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে যেসব প্লটে এখনো ট্যানারি কারখানা স্থাপন করা হয়নি, সেগুলোর বরাদ্দ বাতিল করে বাই-প্রডাক্ট উৎপাদনকারীদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। সভায় শিল্পমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

সালমান ফজলুর রহমান আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চামড়াশিল্পের বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যেকোনো মূল্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। যাঁরা শিল্পনগরীতে প্লট বরাদ্দ নিয়ে কারখানা স্থাপন করেননি, তাঁদের প্লট বরাদ্দ বাতিল করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা