kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

ওএমএসের চালে আগ্রহ নেই

৩০ টাকার পরিবর্তে দাম হতে পারে ২৫ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওএমএসের চালে আগ্রহ নেই

লাইনে দাঁড়িয়ে ওএমএস পণ্য নিচ্ছে ক্রেতারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ওএমএসের মাধ্যমে চাল বিক্রির উদ্যোগ নেয় খাদ্য অধিদপ্তর। কিন্তু তাতে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলাররা বিক্রির উদ্দেশ্যে কোনো চাল নিচ্ছেন না অধিদপ্তরের কাছ থেকে।

জানা গেছে, চালের বাজার বেশ কিছুদিন ধরেই স্থিতিশীল রয়েছে। ওএমএসের চাল বিক্রি হয় ৩০ টাকা কেজি দরে, যা বাজারের দামের কাছাকাছি। এ কারণে ডিলাররা চাল নিচ্ছেন না। তাঁরা বলছেন এই দামে চাল নিলে বিক্রিই করা যাবে না।

তবে এ সমস্যা থেকে উত্তরণে ওএমএসের চালের দাম কমানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। খাদ্য অধিদপ্তর দ্রুতই দাম কমানোর সুপারিশ করে একটি প্রস্তাব খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠাবে। জানা গেছে, ২৫ টাকা কেজি দরে ওএমএসের চাল বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হবে মন্ত্রণালয়ের কাছে। যেখানে ডিলাররা ২৩ টাকা কেজি দরে কিনবেন এবং ২৫ টাকায় বিক্রি করবেন।

জানা গেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদপ্তর চাল বিক্রির একটি নির্দেশনা প্রদান করে। এতে বলা হয় ‘সারা দেশে মজুদকৃত চালের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য সব জেলা শহরে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হলো।’

নির্দেশনা প্রদানের ১০ দিন পার হলেও এখনো কোনো ডিলার চাল তোলেননি। ডিলাররা বলছেন, মোটা চালের দাম ৩০ টাকায় বিক্রি করলে ক্রেতা পাওয়া যাবে না। কারণ চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।

ওএমএসের এক ডিলার নাসির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে চালের দাম সমন্বয় না করলে বিক্রি হবে না। কারণ চালের বাজার এখন বেশ স্থিতিশীল।’

এ পরিস্থিতিতে অধিদপ্তরও চাচ্ছে চালের দাম কমানোর। কারণ এখন সরকারের কাছে পর্যাপ্ত চাল রয়েছে। সামনে আবার আমন মৌসুমের চাল উঠবে। এখন চালের মজুদ না কমাতে পারলে নতুন মৌসুমে চাল ক্রয় করে রাখার মতো জায়গা হবে না। এ কারণে এখন চাল বিক্রি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যেহেতু চালের দাম খুব বেশি নয়, তাই বিক্রির একমাত্র পথ হলো দাম কমানো।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা একটা প্রস্তাবনা তৈরি করেছি। এতে চালের দাম ৩০ টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ টাকা করার সুপারিশ করা হবে। দ্রুতই এই প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

জানা গেছে, বর্তমানে সরকারের কাছে চাল ও গমের মোট মজুদ রয়েছে ১৮ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে শুধু চালের মজুদই রয়েছে ১৪ লাখ ৫২ হাজার মেট্রিক টন।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণের তথ্য বলছে, বর্তমানে মোটা চাল ৩০-৩৮ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি চিকন চালগুলো ৪২-৪৮ টাকা এবং চিকন চাল ৪৭-৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা