kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

বছরে ১৮ লাখ টাকা জরিমানা গুনছে

পুঁজিবাজারে আসতে গড়িমসি ২৭ বীমা কম্পানির

শওকত আলী   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পুঁজিবাজারে আসতে গড়িমসি ২৭ বীমা কম্পানির

প্রতিদিন পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা গুনছে তবু পুঁজিবাজারে আসছে না। ২৭টি জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা কম্পানি রয়েছে এই তালিকায়। আইন অনুযায়ী বীমা কম্পানিগুলোকে কার্যক্রম শুরুর তিন বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে আসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বীমাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম্পানিগুলোর অধিকাংশই বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত। কিছু কম্পানির আর্থিক ভিত বেশ দুর্বল। যে কারণে শত শত গ্রাহকের বীমা দাবির টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া পুঁজিবাজারে এলে কম্পানিগুলো বাড়তি জবাবদিহির আওতায় আসবে। এসব কারণেই বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্ত হতে চায় না।

তিন বছর পার হওয়ার পর যত দিন কম্পানিটি তালিকাভুক্ত হতে না পারবে তত দিন প্রতিদিনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা গুনতে হয়। সে হিসেবে তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণে একটি কম্পানিকে বছরে ১৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়।

বছরে এমন বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হলেও দেশের ১৮টি জীবন বীমা এবং ৯টি সাধারণ বীমা কম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না। এর মধ্যে ২৩ বছরে তালিকাভুক্ত হতে না পারা একটি কম্পানি রয়েছে। এমন একটি কম্পানি মেঘনা ইনসু্যুরেন্স। তারাও জরিমানা গুনছে অথচ তালিকাভুক্ত হচ্ছে না।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআর) চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিন বছর পার হয়েছে অথচ পুঁজিবাজারে আসতে পারছে না তারা জরিমানা দিচ্ছে। অনেকে আবার সময় চেয়ে আবেদনও করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে দ্রুতই আবার বসব। আইন অনুযায়ী পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য পরপর তিন বছর কম্পানিকে লাভে থাকতে হবে। তবে সবাইকে পুঁজিবাজারে আনার জন্য যেটুকু তদারকি দরকার তা সবটাই আমরা করছি।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়া ১৮টি জীবন বীমা কম্পানি হলো— বায়রা লাইফ ইনস্যুরেন্স, গোল্ডেন লাইফ ইনস্যুরেন্স, হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইনস্যুরেন্স, বেস্ট লাইফ ইনস্যুরেন্স, চার্টার্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স, এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ইনস্যুরেন্স, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স, সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স, আলফা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স, ডায়মন্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স, গার্ডিয়ান লাইফ ইনস্যুরেন্স, যমুনা লাইফ ইনস্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স, স্বদেশ লাইফ ইনস্যুরেন্স, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স এবং লাইফ ইনস্যুরেন্স করপোরেশন অব বাংলাদেশ।

বাকি ৯টি হলো সাধারণ বীমা কম্পানি। এগুলো হলো ক্রিস্টাল ইনস্যুরেন্স, মেঘনা ইনস্যুরেন্স, সাউথ এশিয়া ইনস্যুরেন্স, ইসলামী কমার্শিয়াল ইনস্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইনস্যুরেন্স, দেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স, এক্সপ্রেস ইনস্যুরেন্স, সেনা কল্যাণ ইনস্যুরেন্স এবং সিকদার ইনস্যুরেন্স।

আইন লঙ্ঘন করে বছরের পর বছর দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়া এসব কম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। শুধু জরিমানাই নয়, শাস্তির আওতা কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে ভাবছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। গত ১৬ সেপ্টেম্বর কম্পানিগুলোকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। আইডিআরএ সদস্য গকুল চাঁদ দাসের সই করা এসংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে কম্পানিগুলোকে।

চিঠিতে বলা হয়, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তালিকাভুক্ত না হলে বীমা আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বীমা আইন ২০১০-এর ২১ ধারা এবং বীমাকারীর মূলধন ও শেয়ার ধারণ বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধান মোতাবেক এ নির্দেশ পালন করতে হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে অবশ্য ৭৮টি বীমা কম্পানির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সতর্ক করে বলেছেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হলে কম্পানিগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

তবে অর্থমন্ত্রী লাইসেন্স বাতিলের কথা বললেও আইন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণে লাইসেন্স বাতিল করার সুযোগ নেই, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঊর্ধ্বতনরাই স্বীকার করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইডিআরএর পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, বীমা আইনে তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণে কোনো কম্পানির লাইসেন্স বাতিল করার সুযোগ নেই। এজন্য আইন সংশোধন করতে হবে। আইনে তালিকাভুক্ত না হলে জরিমানার বিধান আছে।

বিএসইসির কমিশনার স্বপন কুমার বালা এক অনুষ্ঠানে বলেন, এমন অনেক বীমা কম্পানি রয়েছে যাদের শেয়ারের দাম প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) ১০ টাকা পাওয়ার যোগ্যও নয়। যে ২৭টি কম্পানির কথা বলা হচ্ছে, তারা তালিকাভুক্ত হলে এই ১০ টাকা দামও প্রশ্নবোধক হতে পারে।

ডিসেম্বরের মধ্যে পুঁজিবাজারে আসতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে জানতে চাইলে মেঘনা ইনস্যুরেন্সের সিইও এ কে এম সরওয়ার জাহান জামিল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা দ্রুত কাজ শুরু করেছি। তবে প্রসপেক্টাস তৈরি করা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। তার পরও সবাই মিলে কিভাবে দ্রুত সব শেষ করা যায় তা নিয়ে কাজ করছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা