kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

কর্মী রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে চট্টগ্রাম

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কর্মী রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে চট্টগ্রাম

দেশের জেলাভিত্তিক কর্মী রপ্তানির দিক থেকে চট্টগ্রামের অবস্থান ছিল বেশ দাপুটে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা কর্মী রপ্তানির শীর্ষস্থান দখলে ছিল

চট্টগ্রাম থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মী যায় সৌদি আরবে; সে দেশে কর্মী রপ্তানির দুয়ার খুলেছে অনেক আগেই। এখন মোট কর্মী রপ্তানির ৫৭ শতাংশই যাচ্ছে সৌদি আরবে কিন্তু এর সুফল পড়েনি চট্টগ্রামে। উল্টো কর্মী রপ্তানির দিক থেকে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ে এখন চতুর্থ স্থানে নেমেছে চট্টগ্রাম জেলা।

২০১৯ সালের জানুয়ারি-জুলাই সাত মাসে কর্মী রপ্তানির চিত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে। সাত মাসে কর্মী রপ্তানির তালিকার শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা জেলা, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, তৃতীয় টাঙ্গাইল ও চতুর্থ স্থানে চট্টগ্রাম।

উল্লেখ্য, দেশের জেলাভিত্তিক কর্মী রপ্তানির দিক থেকে চট্টগ্রামের অবস্থান ছিল বেশ দাপুটে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা কর্মী রপ্তানির শীর্ষস্থান দখলে ছিল। এর পর কর্মী রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে ২০১৭ সালে তৃতীয় স্থানে নামে। চলতি ২০১৯ সালের সাত মাসে এখন আরেক ধাপ পিছিয়ে চতুর্থ স্থানে নামল চট্টগ্রাম।

পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে চট্টগ্রাম জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর উপপরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, চট্টগ্রামের লোকজন সৌদি আরবে ব্যবসা-বাণিজ্য করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন কিন্তু ইদানীং সৌদি আরবের লোকজনই ১৮টি খাতের ব্যবসা নিজেরাই করছে। এতে করে চট্টগ্রামের লোকজনের আগ্রহে ভাটা পড়েছে। বিপরীতে অন্য জেলার লোকজন যেকোনো পেশা নিয়েই সৌদিতে যাচ্ছে; ফলে চট্টগ্রাম পিছিয়ে পড়ছে।

তিনি মনে করছেন, চট্টগ্রাম থেকে ওমান-কাতারেও ভালো সংখ্যক লোক গেলেও ইদানীং সেখানে চাহিদা কমেছে। এখন চট্টগ্রামের লোকদের মালয়েশিয়া যাওয়ার আগ্রহও কমেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের লোকজনের দুবাইতে যাওয়ার আগ্রহ প্রবল, তবে সেখানে সীমিত লোক চাকরি নিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ থেকে এক লাখ চালক চেয়েছে সৌদি আরব কিন্তু প্রশিক্ষিত চালক না থাকায় সেই চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারছি না। আর চট্টগ্রামে চালক খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম থেকে কর্মী রপ্তানি কমে যাওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে, চট্টগ্রামের লোকদের নির্দিষ্ট কিছু দেশে যাওয়ার প্রবণতা আছে বিপরীতে অন্য জেলার লোকজন বিশ্বের ১৬৮টি দেশেই যেতে আগ্রহী। এতে চট্টগ্রামের তুলনায় অন্য জেলাগুলো এগিয়ে যাচ্ছে। আর চট্টগ্রামের লোকজনের আর্থিক অবস্থাও যেকোনো দেশে না যাওয়ার আরেকটি কারণ।

সরকারি হিসাবে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি-জুলাই (সাত মাস) বাংলাদেশ থেকে মোট তিন লাখ ৫৪ হাজার কর্মী চাকরি নিয়ে বিদেশ গেছেন। কর্মী যাওয়ার দিক থেকে শীর্ষে অবস্থানে ছিল সৌদি আরব; মোট কর্মীর ৫৭ শতাংশই গেছে সেই দেশে। এর পরও চট্টগ্রামের অবস্থানের সুফল মেলেনি উল্টো আরো একধাপ পিছিয়ে চতুর্থতে নেমেছে।

কর্মী রপ্তানির হিসাবে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি-জুলাই সাত মাসে জেলাভিত্তিক কর্মী রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা; কর্মী গেছেন সাড়ে ৩৬ হাজার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে গেছে সাড়ে ২৩ হাজার। তৃতীয় স্থানে থাকা টাঙ্গাইল জেলা থেকে গেছেন ২০ হাজার ৭০০। চতুর্থ স্থানে থাকা চট্টগ্রাম জেলা থেকে গেছেন ২০ হাজার ৪০০। পঞ্চম স্থানে থাকা ঢাকা জেলা থেকে গেছেন ১৭ হাজার জন।

চট্টগ্রাম বৈদেশিক কর্মসংস্থান অফিসে একজন কর্মী বিদেশ যাওয়ার সব সুবিধা নিশ্চিত করার পরও কর্মী যাওয়া কমেছে। কেন জানতে চাইলে আটাব এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এমদাদ উল্লাহ অবশ্য ভিন্ন কারণ বলছেন, সৌদি আরবে কর্মী রপ্তানিতে এখন মনোপলি ব্যবসা চলছে। দেড় হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির অনুকূলে মাত্র আড়াই শ প্রতিষ্ঠান কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে। চট্টগ্রামে ৫০টি প্রতিষ্ঠান থাকলেও মাত্র সাত-আট প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন আছে। ফলে আমাদের কাছে চাহিদা প্রচুর থাকলেও পাঠাতে পারছি না; এতে করে চট্টগ্রাম পিছিয়ে পড়ছে।

আর মনোপলি ব্যবসার কারণে একজন কর্মী যেতে খরচ লাগছে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। অথচ সবাইকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিলে এই ব্যয় এক লাখ টাকায় নেমে আসত বলে মনে করেন তিনি।

মালয়েশিয়ায় কর্মী রপ্তানি আগামী মাস থেকে আবারও শুরু হচ্ছে; এতে করে চট্টগ্রামে কর্মী রপ্তানি আরো বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। কারণ মালয়েশিয়া সরকার প্রতিবছর ১০ লাখ কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ থেকে।

একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সি বলছে, আত্মীয়তার সূত্র ধরেই চট্টগ্রামের লোকজন বিদেশে চাকরি করতে যান। এর বাইরে যেতে চান না। ফলে নতুন নতুন দেশের কর্মসংস্থান লুফে নিচ্ছেন দেশের বাকি জেলার লোকজন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা