kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বসুন্ধরা সিমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় সেমিনার

বাঁধ রক্ষা ব্যয় ৯০% কমাবে ‘ভেটিভার’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঁধ রক্ষা ব্যয় ৯০% কমাবে ‘ভেটিভার’

সেমিনারে কথা বলেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম

সমুদ্রতীরবর্তী এলাকা, রাস্তার বাঁধ কিংবা নদীর পাড় বাঁচাতে আমাদের দেশে বর্তমানে ব্যবহৃত হচেছ জিওটেক্সটাইল বা কংক্রিটের ব্লক। যেগুলো নির্মাণ অনেক ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। এছাড়া লবণাক্ত পানির অঞ্চলে টিকেও থাকতে পারে না।  তাই কম সময়ে স্বল্প খরছে বাঁধ রক্ষায় বিকল্প ভূমিকা রাখতে পারে সবুজ পদ্ধতি ‘ভেটিভার’ (বিন্না ঘাস)।

গতকাল সোমবার ‘বায়ো ইঞ্জিনিয়ারিং মেথড ফর স্লোপ স্ট্যালািইজেশন: ইউজিং ভেটিভার’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য জানান সেমিনারের প্রধান বক্তা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।

দেশের শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা সিমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সেমিনারের আয়োজন করে সড়ক ও জনপথ প্রকৌশলী সমিতি। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ও জনপথ প্রকৌশলী সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী মো. আব্দুর সবুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারটি সঞ্চলনা করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক-৩ (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) সাসেক রোড কানেক্টিভিটি প্রকল্পের প্রকৌশলী সন্তোষ কুমার রয়। বক্তব্যে রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন।

মুল প্রবন্ধে শরীফুল ইসলাম বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে বাঁধ রক্ষা একটি ব্যববহুল ব্যবস্থা। সাধারণত এতে বিদেশী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। সিসি ব্লক ও জিও টেক্সটাইল ব্যবহারের ফলে এ পদ্ধতি আবার পরিবেশবান্ধবও নয়। এছাড়া সব জায়গায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার অপরিহার্য নয়। তাই বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে বিন্না ঘাস পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। এটা  সময় ও ব্যয় সাশ্রয় করবে।

এই গবেষক আরো বলেন, উচ্চ প্রযুক্তি সব জায়গায় ব্যবহার খুব একটা জরুরী নয়। প্রাকৃতিক ঘাস ব্যবহার করা হলে ৯০ শতাংশ ব্যয় কমে আসবে। পরিবেশের কোন ক্ষতি হবে না। এছাড়া ঘাস উৎপাদনের ফলে স্থানীয় লোকজনের আয়ের একটি বড় উৎস হতে পারে। 

এ ব্যাপারে সরকারের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান জানান শরিফুল ইসলাম। বিন্না ঘাসের শিকড় অনেক লম্বা হতে পারে। মাত্র ৪ থেকে ৬ মাসেই মাটির ছয় থেকে দশ ফুট গভীরে শিকড় চলে যায়, চারপাশেও ছড়িয়ে পড়ে অনেক এলাকাজুড়ে। একটা শিকড়ের সহনশক্তি ইস্পাতের ছয় ভাগের এক ভাগ! অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে এই ঘাসের। সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাখেন বসুন্ধরা সিমেন্টের মহাব্যবস্থাপক (সেল্স) প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান। আরো ছিলেন বসুন্ধরা সিমেন্টের ব্যবস্থাপক (টেকনিক্যাল সাপোর্ট) প্রকৌশলী ইমাম আল কুদরাত-ই-এলাহি  প্রমূখ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা