kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

ঝুলে গেছে হোটেল রেস্টুরেন্টে ‘ফুড স্টিকার’ লাগানোর কাজ!

► জনবলের অভাবে কাজ করতে পারছে না বলে দাবি করছে বিএফএসএ
► দ্বিতীয় ধাপে রেস্টুরেন্টের সঙ্গে মিষ্টির দোকানেও দেওয়া হবে ফুড স্টিকার

শওকত আলী   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঝুলে গেছে হোটেল রেস্টুরেন্টে ‘ফুড স্টিকার’ লাগানোর কাজ!

চলতি বছরের শুরুতেই রাজধানীর ৫৭টি হোটেল-রেস্টুরেন্টকে তাদের মান অনুযায়ী ‘ফুড স্টিকার’ প্রদান করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। যে স্টিকার দেখে ভোক্তারা বুঝতে পারবে কোন হোটেলের পরিবেশ ও খাবারের মান কেমন। এভাবে দ্রুত ঢাকার সব হোটেল-রেস্টুরেন্টকে গ্রেডিংয়ের আওতায় আনার কথা থাকলেও তা ঝুলে গেছে। সাত মাসের ব্যবধানে নতুন কোনো রেস্টুরেন্টকে ফুড স্টিকার প্রদান করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, রাজধানীর হাজারখানেক রেস্টুরেন্টের মানের ওপর সার্ভে করার কাজ শেষ হলেও তাদের স্টিকার প্রদান করতে পারছে না বিএফএসএ। গত ২০ ‘জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ৫৭টি রেস্টুরেন্টের মধ্যে স্টিকার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ১৮টি রেস্টুরেন্টকে ‘এ প্লাস’ ও ৩৯টি রেস্টুরেন্টকে ‘এ’ গ্রেডের ফুড স্টিকার প্রদান করা হয়েছিল। এরপর সাত মাস সময় পেরিয়ে গেলেও একটি রেস্টুরেন্টেও ফুড স্টিকার লাগাতে পারেনি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি। যদিও পর্যায়ক্রমে রাজধানীর সব রেস্টুরেন্টেই স্টিকার লাগানোর কথা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির মোট চার ক্যাটাগরির ফুড স্টিকার প্রদান করার কথা। সবচেয়ে ভালো মানের রেস্টুরেন্টে ‘এ প্লাস’ (সবুজ রঙের স্টিকার), এর চেয়ে কম ভালো রেস্টুরেন্টে ‘এ’ (নীল রঙের স্টিকার), সাধারণ মানের হোটেলে হলুদ রঙের স্টিকার থাকবে যার ক্যাটাগরি নির্ধারণ হবে ‘বি’ দিয়ে। আর যেগুলো একেবারে খারাপ মানের সেগুলোকে এক মাসের নোটিশ প্রদান করে ‘সি’ (কমলা রঙের) গ্রেড প্রদান করার কথা।

বিএফএসএ বলছে, খুব শিগগির দ্বিতীয় ধাপে ফুড স্টিকার প্রদানের কাজ শুরুর সম্ভাবনা নেই। লোকবলের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি কাজটি সময়মতো করতে পারছে না বলে জানা গেছে। তবে দ্বিতীয় ধাপের গ্রেডিং প্রদানের সময় রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি মিষ্টির দোকানগুলোও থাকবে বলে জানা গেছে। কারণ মিষ্টির দোকান ও মিষ্টি তৈরির কারখানার পরিবেশের মান নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।

বিএফএসএর সদস্য মাহাবুব কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপের স্টিকার প্রদানের কাজ শুরু করতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। আমরা লোকবলের অভাবেই মূলত কাজটা করতে পারছি না। যদিও আমাদের সার্ভের কাজ চলছে।’

এদিকে যে রেস্টুরেন্টগুলোকে গ্রেডিং করা হয়েছে সেগুলো নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে না বলেও স্বীকার করেন এই সদস্য। তিনি বলেন, ‘গ্রেডিং প্রদান করা রেস্টুরেন্টগুলোকে যেভাবে নজরদারি করা উচিত সেভাবে করা হচ্ছে না।’ যদিও প্রতিনিয়তই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এসব হোটেলে নজরদারি করার কথা বলেছিল বিএফএসএ।

তবে সম্প্রতি গ্রেডিং পাওয়া দুটি হোটেল নিয়ম না মানার কারণে তাদের নিচের ধাপে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফকিরাপুলের নিউ আল ইমাম রেস্টুরেন্টকে ভালো মানের অর্থাৎ ‘এ’ গ্রেড থেকে সাধারণ মানে অর্থাৎ বি গ্রেডে এবং হজরত শাহ চন্দ্রপুরী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ‘এ’ গ্রেড থেকে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

তবে গ্রেড পাওয়া কয়েকটি হোটেলে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অন্য হোটেলগুলোর তুলনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছতার বিষয়গুলো তারা মেনে চলছে।

গত রবিবার দুপুরে বাইতুল মোকাররমের বিপরীতে অবস্থিত খানা বাসমতি রেস্টুরেন্টের ভেতর গিয়ে দেখা যায়, একটি মনিটর লাগানো রয়েছে ভোক্তাদের বসার স্থানের ওপরে। যাতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে রান্নাঘরের চিত্র দেখা যাচ্ছিল। তিনজন পাচকের মধ্যে দুজন ঠিকঠাক পোশাক পরিহিত অবস্থায় থাকলেও বাকি একজনের মাথায় কোনো টুপি ছিল না। যিনি রুটির জন্য ময়দার গোলা তৈরির কাজ করছিলেন।

তবে ‘এ’ প্লাস পাওয়া পল্টনের কস্তুরী রেস্টুরেন্ট, হান্ডি, দৈনিক বাংলার মোড়ের ‘এ’ গ্রেড পাওয়া ফুড ল্যাব রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাফেসহ কয়েকটি হোটেলে বেশ পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না ও খাবার পরিবেশন করতে দেখা গেছে। ফুড ল্যাব রেস্টুরেন্টে দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় বেসরকারি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম  বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন পরিপাটি পরিবেশে খাবার খাওয়াতে আনন্দ আছে।’

কস্তুরীতে খাবার খাওয়ার সময় এক সরকারি কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, ‘পরিবেশটা নোংরা হলে ভালো খাবারেও অরুচি ধরে। তার ওপর যদি দেখা যায় রান্নাটা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে হচ্ছে তাহলে তো কথাই নেই।’

কস্তুরীর এমডি ও বাংলাদেশ হোটেল মালিক সমিতির সহসভাপতি কাওসার আহমেদ বলেন, গ্রেডিং পাওয়ার পর তাঁর রেস্টুরেন্টের ব্যবসা আরো বেড়েছে। আগের চেয়েও বেশি মানুষ খাবার খেতে আসছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা