kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জলবায়ু বাজেট বাস্তবায়নে যৌথ মনিটরিং টিম গড়ার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলবায়ু বাজেট বাস্তবায়নে যৌথ মনিটরিং টিম গড়ার তাগিদ

বাংলাদেশ জলবায়ু বাজেট ২০১৯-২০ : সুধীসমাজ সংস্থার বিশ্লেষণ ও প্রতিফলন’ আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা

প্রতিবছর জলবায়ু বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ আখ্যা দিয়ে বরাদ্দের সঠিক বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজ সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্ব রেখে যৌথ মনিটরিং টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু সমালোচনা বা বিষোদ্গার নয়, জলবায়ু বাজেটের সঠিক বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা ও পরামর্শ দিতে এই টাস্কফোর্স গঠনের গুরুত্বারোপ করছেন তাঁরা।

গতকাল রবিবার ‘বাংলাদেশ জলবায়ু বাজেট ২০১৯-২০২০ : সুধীসমাজ সংস্থার বিশ্লেষণ ও প্রতিফলন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা এই দাবি জানান। রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (আইসিসিসিএডি)’ যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে।

জলবায়ু বাজেট ও করণীয় নিয়ে বক্তব্য দেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির, আইসিসিসিএডির পরিচালক ড. সলিমুল হক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এম খালিদ মাহমুদ, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রগ্রাম ডিরেক্টর ড. মিজানুর রহমান খান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের রেজিলিয়েন্স এবং ক্লাইমেট জাস্টিস ইউনিটের প্রধান তানজীর হোসেন ও প্রগ্রাম কর্মকর্তা লামিয়া হোসেন।

বক্তারা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বরাদ্দকৃত বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়ন ও প্রভাব পরিমাপের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে সরকারি, বেসরকারি ও সুধীসমাজ সংস্থাগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে মনিটরিং টাস্কফোর্স গঠন করা জরুরি। পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জলবায়ু বাজেট বাস্তবায়নের যথার্থতা নিশ্চিতে জলবায়ু ও দুর্যোগ বিষয়ক গবেষণা ও জ্ঞান ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ানোও প্রয়োজন।

ড. সলিমুল হক বলেন, ‘আগামী ১৫-২০ বছর পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টি আলোচিত থাকবে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে একটি ফান্ড গঠন করা হয়েছে কিন্তু এখানেই আটকে থাকলে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তনকে মূলধারায় আনতে হবে। কারণ আগামীতে এক কোটি মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনে রিফিউজি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটাকে মোকাবেলা করতে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৫টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগে বরাদ্দকৃত ক্রমসঞ্চিত বাজেট মোট জাতীয় বাজেটের ৫৮.১১ শতাংশ। আর মোট বরাদ্দের ৭.৮১ শতাংশ হলো জলবায়ু সম্পর্কিত। অর্থাৎ পাঁচ বছরে জলবায়ু সম্পর্কিত বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি ১২ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা থেকে ২৩ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা হয়েছে, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের জিডিপির মাত্র ০.৮ শতাংশ। তবে এ বছর মোট জাতীয় বাজেটে জলবায়ু সম্পর্কিত বাজেট বরাদ্দ ০.১২ শতাংশ কমেছে। তবে অন্যান্য খাতে বরাদ্দ বেড়েছে।

প্রবন্ধে আরো বলা হয়, এ বছরের বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য খাত, যা মোট বরাদ্দের ৩৯ শতাংশ। অবকাঠামোগত উন্নয়নে বরাদ্দ ২৯ শতাংশ এবং মিটিগেশন ও নিম্ন কার্বন উৎপাদন খাতে বরাদ্দ ১৪ শতাংশ। মোট বাজেটে শতাংশের হিসেবে সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দ এ বছর কমেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এম খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘আগে জলবায়ু বাজেট প্রণয়নে টপ-ডাউন অ্যাপোর্চ ব্যবহার হতো। কিন্তু এখন মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তারা গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বরাদ্দ দেয়।’

ড. মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু বাজেট ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সে জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

ফারাহ্ কবির বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সরকার বাজেটে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে। আর এই বাজেটের মাধ্যমেই সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও গুরুত্বারোপ বুঝতে পারছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা