kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আয়বৈষম্য কমানোয় বিশেষ নজর

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে কর্মসংস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে কর্মসংস্থান

ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ক্রমাগত বাড়তে থাকা আয়বৈষম্যে লাগাম টেনে ধরার পরিকল্পনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ধারণাপত্র তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। দারিদ্র্যের হার ও আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে আনা, স্থবির থাকা বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আনা এবং সাম্প্রতিক বছরে নাজুক অবস্থানে থাকা আর্থিক খাতের সংস্কারেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়। আগামী ২০২৪ সাল নাগাদ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়া এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনে এসব পরিকল্পনা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে জিইডি।

প্রস্তাবিত অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ধারণাপত্রটি গতকাল রবিবার জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। সভায় জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ সব মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ধারণাপত্রটি উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য মতে, চলমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আসছে জুনে। জুলাই থেকে যাত্রা শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। এখন থেকে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছে জিইডি। আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া তৈরির কাজ শেষ হবে। এরপর তা সব মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীজনের কাছে পাঠানো হবে। সব পক্ষের মতামত নিয়ে তা পাঁচসালা পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করেই চূড়ান্ত করা হবে।

জানতে চাইলে ড. শামসুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছি। সেটি নিশ্চিত করতে হলে সকলের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি আয়বৈষম্য কমাতে হবে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আমরা দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।’

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ধারণাপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের টানা দুই মেয়াদে আশানুরূপ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারায় হতাশা রয়েছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে। জিইডি বলছে, ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তির প্রয়োজনীয়তার তুলনায় ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার খুবই কম। তাই আসছে পাঁচসালা পরিকল্পনায় ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে দ্রুত কর্মসংস্থান বাড়াতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

কমিশন বলছে, ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হলেও তাতে আশানুরূপ সফলতা আসেনি। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বেসরকারি মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৩২ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেটি এখনো ২৩ শতাংশের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। ৯ ও ১০ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চাইলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করে কমিশন।

জিইডি সদস্য শামসুল আলম বলেন, ‘জানুয়ারি পর্যন্ত আমাদের হাতে যতটুকু সময় আছে এই সময়ে আমরা ২০টি গবেষণা করব। এসব গবেষণার উদ্দেশ্য হলো আমাদের তথ্যের ঘাটতি আছে। যেসব খাতে তথ্যের ঘাটতি আছে সেসব খাতে স্টাডি করে তথ্য বের করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা