kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘আয়বৈষম্য বাড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘আয়বৈষম্য বাড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক’

দেশে আয়বৈষম্য বেড়েই চলেছে। এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে গেছে। বাংলাদেশ এখন একটি ‘উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশে’ পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের সেমিনার হলে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আয়বৈষম্য : সমাধান কোন পথে’ বিষয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন এফসিএ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৮.১৩ শতাংশ অর্জিত হয়েছে বলে সরকারিভাবে প্রাক্কলিত হয়েছে। এ বিবেচনায় বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু দেশে আয়বৈষম্য বাড়ছে ব্যাপক হারে। আয়বৈষম্য বাড়তে থাকার এ প্রবণতাকে দেশের আসন্ন মহাবিপত্সংকেত বললে অত্যুক্তি করা হবে না।’

মইনুল ইসলাম বলেন, দেশের উচ্চবিত্ত কিছুসংখ্যক মানুষের মধ্যে কুক্ষিগত হয়ে আছে বেশির ভাগ সম্পদ। এখন মাত্র ২৫৫ জন ব্যক্তির কাছে বাংলাদেশের বেশির ভাগ সম্পদ আটকে আছে। দেশে কোটিপতির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর পেছনে ন্যক্কারজনক পন্থা হলো দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হওয়া।

তিনি বলেন, দুঃখজনক বিষয় হলো ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ গার্মেন্ট মালিকরাই। দেশ থেকে বিদেশে পুঁজি পাচারকারী ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের অধিকাংশই গার্মেন্ট মালিক। মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমের মালিক এবং টরন্টোর ‘বেগমপাড়ার’ বাড়ির মালিকদের মধ্যেও দুর্নীতিবাজ ইঞ্জিনিয়ার, সিভিল আমলা, সামরিক অফিসার, অর্থনীতিবিদদের পরিবারের পাশাপাশি গার্মেন্ট মালিকদের পরিবারই বেশি অনুপাতে চিহ্নিত করা যাচ্ছে।

ড. মইনুল বলেন, নির্মাণশিল্প, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ, প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল-কলেজ, কিন্ডারগার্টেন, প্রাইভেট ব্যাংক-বীমা, এনজিও, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বিলাসী পরিবহন, হাসপাতাল-ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদপত্র দেশের দ্রুতবর্ধনশীল ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে কৃষক-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হওয়ার চেয়ে ক্রমাগতভাবে নিচের দিকে নামছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন বলেন, সারা বিশ্ব বাজার অর্থনীতিতে ছেয়ে গেছে। এটা সামনে রেখেই সার্বিক উন্নয়নের চিন্তা করতে হবে।

স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বিতরণের সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে সবচেয়ে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ব্যাংকিং খাতের জন্য। স্বল্প মেয়াদে আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়োদি ঋণ বিতরণ কোনো দেশের জন্য সুখকর হতে পারে না। যেকোনোভাবে এই সিদ্ধান্তের পরিবর্তন করা উচিত।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দেশে এখনো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করার মতো শক্তিশালী কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। শিল্পে বিনিয়োগের জন্য ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) কোনো ভূমিকা পালন করতে পারছে না। ফলে উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি বন্ড মার্কেট ও শেয়ারবাজার উন্নত করা প্রয়োজন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা