kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান

ব্যবসা সূচকে অগ্রগতি আনতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যবসা সূচকে অগ্রগতি আনতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে

সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম

বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে তলানিতে থাকা বাংলাদেশের অবস্থান উন্নতি করতে তিন বছর ধরে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম। ২০১৬ সালে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কাজী আমিনুল ইসলামের শেষ কর্মদিবস ছিল গতকাল মঙ্গলবার। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে নিজের বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁর কাছে প্রশ্ন ছিল বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সূচকে উন্নতি আনার চেষ্টায় তিন বছরে কোথায় কোথায় বাধার মুখে পড়েছেন? জবাবে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান জানালেন, পরিবর্তন সব সময় যন্ত্রণার; বেদনার। পরিবর্তনকে কেউ সহজভাবে নিতে পারে না। প্রথাগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সবাই চলতে চায়। কিন্তু সব কিছুই যে পরিবর্তনশীল এটা কেউ মানতে চায় না। সে কারণে অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে অগ্রগতি আনার চেষ্টায় কাজ করতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে তিন বছরে কম্পানি আইন, আরবিট্রেশন আইন সংস্কার, মূলধন প্রাপ্তি ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সুরক্ষাবিষয়ক সংস্কারসহ আরো যেসব সংস্কার এনেছেন, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বের ৫০টি শ্রেষ্ঠ দেশের তালিকায় উঠে আসবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য পূরণে এখন থেকে তিন বছর আগে বিনিয়োগ বোর্ড ও বেসরকারীকরণ কমিশনকে একীভূত করে বিডা গঠন করা হলো, সেই লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে জানতে চাইলে কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, সফলতা এক দিনে আসে না। বেসরকারীকরণ কমিশন থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা চাকরি থেকে বিদায় নিলে অবস্থার পরিবর্তন আসবে। একসময় বিডা সেন্টার অব এক্সিলেন্সে রূপ পাবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

কাজী আমিনুল ইসলাম মনে করেন, এই বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে পারে এই দেশের জনগণ। শুধু এই মানুষগুলোকে উদ্যোক্তা ও সৃজনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান বাড়াতে হবে। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে তরুণ উদ্যোক্তা, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর। 

নিজের তিন বছরের মেয়াদে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) রেকর্ড হয়েছে বলে দাবি করেন কাজী আমিনুল ইসলাম। তথ্য-উপাত্ত দিয়ে তিনি বলেন, গত অর্থবছরে সারা বিশ্বে যখন এফডিআই ১৩ শতাংশ কমেছে, বাংলাদেশে রেকর্ড ৬৮ শতাংশ এফডিআই বেড়েছে। দেশব্যপী আগামী দুই বছরে ২৪ হাজার উদ্যোক্তা তৈরিতে ‘উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে বিডা। এ ছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে জাপান, চীন, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরবের মতো দেশ সাড়া দিয়েছে। তাঁর মতে, বিলুপ্ত বিনিয়োগ বোর্ডের প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিনিয়োগের পরিকল্পনা ছিল শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রামকে ঘিরে। গত তিন বছরে সেটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিডার নিজস্ব ভবন নির্মাণ করতে না পারাকে ব্যর্থতা মনে করেন কি না— এমন প্রশ্নে কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, এই ভবনটি নির্মাণে ঠিকাদারসহ কমবেশি সবার গাফিলতি ছিল। তবে একটি ভবন নির্মাণ হলো কি হলো না তা দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ নির্ভর করে না। তাই এটিকে নিজের ব্যর্থতা দেখেন না তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে উন্নতি আনতে গত তিন বছরে একজন ব্যবসায়ীর ব্যবসা শুরু করার সময় ৪৪ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। ব্যবসায়ীর ব্যয় কমেছে ৬০ শতাংশ। বিদ্যুতের সংযোগ পেতে আগের চেয়ে ২৮ শতাংশ সময় কমেছে। ব্যয় কমেছে ২২ শতাংশ। জমি নিবন্ধনে  ব্যবসায়ীর সময় কমেছে ৪৭ শতাংশ। কর প্রদানে সময় কমেছে ৪৪ শতাংশ। গত তিন বছরে মিত্সুবিসি-সুজুকির মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে এসেছে। এটা নিঃসন্দেহে বিশ্বে একটি সবুজ সংকেত দেবে যে বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উপযোগী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা