kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্যাংক খাতে উদ্ভাবন বাড়ানোর তাগিদ

অর্থায়নে রাজশাহী ও খুলনায় নজর দেওয়ার পরামর্শ

বাণিজ্য ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের ব্যাংকিং খাতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও উদ্ভাবন কম। পুরনো পণ্য নির্ভর করেই চলছে এ খাত। তাই ব্যাংকিং খাতকে আরো এগিয়ে নিতে স্বয়ংক্রিয়ভিত্তিক পণ্য উদ্ভাবনের তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। সেই সঙ্গে বাণিজ্য অর্থায়নে ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরে রাজশাহী ও খুলনায় নজর দেওয়ার পাশাপাশি এসএমই ঋণ বাড়ানোর পরামর্শ তাদের।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটরিয়ামে ‘কম্পিটিশন, কনসেনট্রেশন অ্যান্ড ব্যাংকিং স্টাবিলিটি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইবিএম-এর পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন এবং কনসালট্যান্সি) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জি। সেমিনারে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএম-এর সাবেক অনুষদ সদস্য আব্দুল কায়উম মোহাম্মাদ কিবরিয়া।

এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ব্যাংকের সংখ্যা, অপারেশন এরিয়া, অ্যাকসেস টু ক্রেডিট, ব্যয়, আর্থিক সেবা, ইনোভেশন ইত্যাদি বিবেচনায় বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাত অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ। প্রতিযোগিতা জাতীয় অর্থনীতি, সমাজের জন্য কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক হলেও ঝুঁকিপূর্ণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের মহাপরিচালক মহা. নাজিমুদ্দিন বলেন, গ্রাহকদের দিক বিবেচনায় ব্যাংকারদের সেবা প্রদান করতে হবে। তিনি বলেন, বিআইবিএমের  গবেষণা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা তাঁর বক্তব্যে ব্যাংকিং খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা আবশ্যক বলে উল্লেখ করেন।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক এমডি ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকগুলোর শাখা সম্প্রসারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলকে বেছে নিতে হবে। সেই সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে নীতিমালা আছে তা পরিপালন করলে অনেকাংশে সুফল পাওয়া যাবে। ব্যাংকগুলোকে এমআইএস শক্তিশালী করতে হবে, যাতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতরা সব তথ্য সহজে পায়। শ্রেণীকৃত ঋণ কমানোর জন্য ব্যাংকের আইসিসিকে শক্তিশালী করতে হবে।

বিআইবিএমের সাবেক সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলি বলেন, প্রতিযোগিতার জন্য লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড থাকতে হবে। সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে। সরকারি ব্যাংকের মতো বেসরকারি ব্যাংকেও গ্রাহকের আমানতের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও এমডি মো. আরফান আলী বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকতে হবে। এতে গ্রাহকরা উপকৃত হবে। বেসরকারি খাত ব্যাংকিং খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি গ্রামে ঋণ আরো বাড়ানোর ওপর জোর দেন।  

সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি এস এ চৌধূরী বলেন, ব্যাংকিং খাতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও ইনোভেশন কম। পুরনো পণ্য নির্ভর করেই চলছে ব্যাংকিং খাত।

এসআইবিএলের এমডি ও সিইও কাজী ওসমান আলী বলেন, ট্রেড ফিন্যানসিংয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরে রাজশাহী ও খুলনায় নজর দিতে হবে। এর বাইরে এসএমই খাতেও ঋণ বাড়াতে হবে।   

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা না থাকলে মার্কেট সম্প্রসারণ হবে না। এটি করতে না পারলে গ্রাহকরা সুবিধা পাবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা