kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিজিএমইএ-অ্যাকর্ড একমত

অ্যাকর্ড চলে গেলে দায়িত্ব নেবে আরএসসি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অ্যাকর্ড চলে গেলে দায়িত্ব নেবে আরএসসি

প্রেস ব্রিফিংয়ে গতকাল কথা বলেন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক

২০২০ সালের মে মাসের আগেই সুষ্ঠুভাবে ইউরোপের ক্রেতা জোট সংগঠন অ্যাকর্ড তাদের বাংলাদেশের কার্যক্রম শেষ করবে। এ ছাড়া দেশীয়ভাবে তদারকি করার নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘আরএমজি সাসটেইনইবিলিটি কাউন্সিল’ (আরএসসি)-এর কাছে তারা তাদের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আরসিসি গঠনে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। ২৫ নভেম্বরের মধ্যে আরসিসি গঠনে খসড়া চূড়ান্ত করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে ফোর পয়েন্ট শেরাটন হোটেলে আলোচনার পর বিজিএমইএ নেতারা এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। সংগঠনটি জানায়, তারা আরএসসির সংঘস্মারক/সংঘবিধি এবং অ্যাকর্ডের দায়িত্ব হস্তান্তর চুক্তি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে হবে। এ ছাড়া বিজিএমইএ এবং অ্যাকর্ড গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রাখতে এবং পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক  বলেন, গতকাল বিজিএমইএ এবং অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটির প্রতিনিধিরা গত ৮ মে ২০১৯-এ স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুসারে আরএসসি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা করতে ঢাকায় বৈঠক করেছেন। বৈঠকে অংশীজনরা ২০২০ সালের মে মাসের মধ্যে অ্যাকর্ড এবং এর সব কার্যবলির (পরিদর্শন, প্রতিকার, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তা-অভিযোগ প্রক্রিয়া) প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে আলোচনা হয়।

তিনি আরো বলেন, আরএসসি একটি অভূতপূর্ব জাতীয় উদ্যোগ, যা দেশীয় শিল্প, ব্র্যান্ড এবং ট্রেড ইউনিয়নকে একত্র করে একটি সমন্বিত কমপ্লায়েন্সের মানদণ্ড নিশ্চিত করবে। যা এ পর্যন্ত  অর্জিত সব সংস্কারকাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। পর্যায়ক্রমে এই আরএসসি শিল্প সম্পর্কে কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত বিষয়গুলোকেও নিজেদের কার্যপরিধির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করবে।

গত মে মাসে অ্যাকর্ড তাদের কার্যক্রম মেয়াদ শেষ হলেও তারা আরো কাজ চালিয়ে যেতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা মনে করে, ক্রেতা জোটগুলো অতিরিক্ত নজরদারি করছে। তাদের অতি নজরদারির ফলে ক্রেতাদের সঙ্গে দেশীয় কারখানাগুলোর ব্যাবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এমন বিরোধিতার মুখে উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোট তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিলেও অ্যাকর্ড বাংলাদেশের আদালত তাদের আবেদনের প্রেক্ষাপটে আরো ২৮১ দিন সময় দেন। যদিও জোটটি ২০২১ সাল পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চেয়েছিল।

জানতে চাইলে বিজিএমইএ নেতারা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণব্যবস্থা তৈরি করতে চাই। আরএসসির আওতায় গার্মেন্ট কারখানার মালিক, শ্রমিক, সংগঠন এবং ব্র্যান্ড প্রতিনিধির সমন্বয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অ্যাকর্ড তাদের এই উদ্যোগের সম্মতি দিয়েছে এবং বিজিএমইএর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।’

সমঝোতা স্মারক অনুসারে ২৮১ দিন শেষ হওয়ার আগে তারা তাদের দায়িত্ব আরএসসিকে হস্তান্তর করবে। এর ফলে বিজিএমইএ জানায় সম্মতি ছাড়া অ্যাকর্ড কোনো কারখানার ব্যাবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারবে না। আশা করা হচ্ছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে আরএসসি চালু হবে। তবে এর জন্য কী পরিমাণ খরচ হবে এই নিয়ে এখনো কোনো হিসাব তৈরি হয়নি। তবে এ জন্য ব্র্যান্ড  ও দাতাদের কাছে শিগগিরই চিঠি দেওয়া হবে।

বিজিএমইএ পরিচালক আসিফ ইব্রাহিম কালের কণ্ঠকে বলেন, আরএসসি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক একটি প্রতিষ্ঠান হবে। এটি দেশের তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে। নতুন উদ্যোগের এ প্ল্যাটফর্ম দায়িত্ব পালনে যেমন সক্ষম হবে, একই সঙ্গে দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে। এই কার্যক্রম শুরু করতে আরো কিছুটা সময় লাগলেও অ্যাকর্ডকে আদালতের দেওয়া নির্ধারিত সময়ের আগেই তা শুরু করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আরএসসি পরিচালনায় ব্যয় মেটানোর অর্থের কোনো সংকট হবে না। এ জন্য সরকার, দাতা সংস্থা, ব্র্যান্ড বায়ার এবং বিজিএমইএ একসঙ্গে কাজ করবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশের (আইবিসি) নির্বাহী কমিটির সদস্য জেড এম কামরুল আনাম, অ্যাকর্ডের  হেড অব গ্লোবাল সোর্সিং এডওয়ার্ড ডেভিড সাউথহল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা