kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দুই মাসে ১৩ শতাংশ বাড়ল রেমিট্যান্স

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই মাসে ১৩ শতাংশ বাড়ল রেমিট্যান্স

প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত আগস্ট মাসে ১৪৮ কোটি ২৮ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। এ অঙ্ক গত বছরের আগস্ট মাসের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, প্রতিবছর দুই ঈদের পর রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যায়। কিন্তু এবার তেমন হয়নি। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ায় রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৬০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠায় প্রবাসীরা, যা ছিল মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে ২১.২০ শতাংশ বেশি। রোজার ঈদ সামনে রেখে প্রবাসীরা দেশে বেশি অর্থ পাঠানোয় মে মাসে ১৭৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে; যা ছিল মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে ৯.৬০ শতাংশ রেমিট্যান্স বেশি পাঠিয়েছিল প্রবাসীরা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল ১৭.৩২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ৩০৮ কোটি পাঁচ লাখ (৩০৮ দশমিক ০৫ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে, যা গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি।

নতুন বাজেটে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা ১০০ টাকা দেশে পাঠালে দুই টাকা প্রণোদনা পাবে।

বাজেটে এ জন্য তিন হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রেমিট্যান্সে এ ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এসংক্রান্ত একটি নীতিমালা ঘোষণা করেছে। ৬ আগস্ট তা প্রকাশ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। এই অঙ্ক আগের বছরের (২০১৭-১৮) চেয়ে ৯.৬ শতাংশ এবং অতীতের যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক বছরে এই পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ১৭.৩২ শতাংশ বেশি ছিল।

এদিকে রেমিট্যান্স বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভও সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। রবিবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২.৭৫ বিলিয়ন ডলার। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মে-জুন মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। রেমিট্যান্স বাড়ায় তা ফের ৩৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা