kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভারতীয় পেঁয়াজের দাপট কমার আশা ব্যবসায়ীদের

দেশের বাজারে কম দামে মিয়ানমারের পেঁয়াজ

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশের বাজারে কম দামে মিয়ানমারের পেঁয়াজ

ভারতীয় পেঁয়াজের দাপট কমাতে বাজারে এসেছে মিয়ানমারের পেঁয়াজ। কিন্তু শঙ্কার বিষয়, বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আনতে গেলেই ভারত সরকার পেঁয়াজের দাম কমিয়ে দেয়। বলছেন আড়তদাররা।

এত দিন ধরে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের একক আধিপত্য চলছে। অন্য কোনো দেশের পেঁয়াজ না থাকায় খাতুনগঞ্জের আড়তে ভারতীয় নাসিক জাতের পেঁয়াজ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে কেজি ৪৪ থেকে ৪৫ টাকায়। এ অবস্থায় গতকাল সোমবার দেশের বাজারে প্রবেশ করেছে ৮০ টন মিয়ানমারের পেঁয়াজ। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৩০ টন আর ঢাকায় পৌঁছেছে ৫০ টন। আকারে ছোট ও তাজা এবং মান ভালো। আর ভারতীয় পেঁয়াজের চেয়ে ১০ টাকা কমে কেজি ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রামের এক আমদানিকারক পরীক্ষামূলকভাবে আমদানি করেছেন। ফলে প্রথম দিনেই এই পেঁয়াজের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

আড়তদাররা বলছেন, বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু হওয়ায় ভারতীয় পেঁয়াজের দাপট কমবে।

খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের আড়তদার মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘গতকাল সোমবার ট্রাকে ১৩ টন পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে ঢুকেছে; বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩৫ টাকায়। দেখলাম সেই পেঁয়াজের মান ভালো, তবে আকারে ছোট। দামও তুলনামূলক কম। কেজিতে ১০ টাকা কম হওয়ায় ক্রেতাদের সাড়া ভালো পাচ্ছি। আশা করছি প্রতিযোগিতার কারণে দাম কমবে।’ জানা গেছে, ভারতে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী কয়েকটি রাজ্যে বৃষ্টিপাত-বন্যার কারণে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। কোরবানির ঈদের পর থেকেই ভারতীয় পেঁয়াজের বাজার চড়া। ঈদের ছুটির পর চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজি ৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অথচ কোরবানির ঈদের এক দিন আগেও সেই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল কেজি ২৬ থেকে ২৮ টাকায়। অবশ্য এক সপ্তাহ ধরে ক্রেতা কমে যাওয়ায় আড়তে দাম কিছুটা কমেছে। তবে এখনো সহনীয় অবস্থায় নেই। দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে গতকাল সোমবার ভারতীয় নাসিক পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজি ৪৫ টাকায়।

খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, মিয়ানমারের পেঁয়াজ আসায় বাজারে প্রতিযোগিতা হবে। ভারতীয় পেঁয়াজের একচেটিয়া প্রভাব কমবে আর এর সুফল পাবে ভোক্তারা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে দেশে পেঁয়াজের দাম এখনো বাড়ছে। বিভিন্ন রাজ্যে পেঁয়াজের সংকট কাটিয়ে দাম স্থিতিশীল করতে সরকার কেন্দ্রীয় গুদাম থেকে ন্যায্য দামে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ছে। এর পরও স্থিতিশীল হয়নি বাজার। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়াতে ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নতুন করে ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য (এমইপি) আরোপের চিন্তা করছে। আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকে গত সপ্তাহে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার; কিন্তু এখনো কার্যকর করেনি।

আড়তদাররা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির খোঁজখবর নিয়ে রেখেছেন অনেক আমদানিকারক। কিন্তু তাঁদের শঙ্কা, বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আনতে গেলেই হঠাৎ করে ভারত সরকার পেঁয়াজের দাম কমিয়ে দেয়। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতিতে পড়তে হয় তাঁদের।

মিয়ানমারের সঙ্গে আমদানি বাণিজ্য করেন এমন কয়েকজন ব্যবসায়ী এরই মধ্যে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছেন। গতকাল সোমবার ৩০ টন পেঁয়াজ টেকনাফ স্থলবন্দর হয়ে খাতুনগঞ্জে ঢুকেছে। আরো ৫০ টন পেঁয়াজ ঢাকার বিভিন্ন আড়তে পৌঁছেছে। ২০১৯ সালের জুন মাসে ভারতে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চলে তীব্র গরম ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ও সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ায় ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানিতে ১০ শতাংশ প্রণোদনা তুলে নিয়েছে। চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় পেঁয়াজ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা