kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নাটোরে চামড়া বিক্রেতারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না

সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে—দাবি বিক্রেতাদের
অভিযোগ অস্বীকার নাটোরের আড়তদারদের

রেজাউল করিম রেজা, নাটোর   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাটোরের আড়তে ট্যানারি মালিক বা তাদের প্রতিনিধিরা চামড়া বিক্রেতাদের ঠকাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা তাদের চামড়ার ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে নাটোরের আড়তদাররা বলেছে, তারা সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া কিনছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভালো চামড়া বেশি দামেই কিনছে।

গতকাল রবিবার চকবৈদ্যনাথ চামড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে চামড়া আসছে নাটোরের আড়তগুলোতে। চামড়া স্তূপ দেওয়া ও সংরক্ষণে ব্যস্ত শ্রমিকরা। সেখানে চামড়া বিক্রেতা রফিক জানান, তিনি মাত্র ১০ টাকা পিস দরে কয়েক শ বকরির চামড়া বিক্রি করেছেন। আড়তদারি, পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে তাঁর পকেটে এক টাকাও ঢুকবে না।

দেলোয়ার নামের আরেক চামড়া বিক্রেতা জানান, এখানে ক্রেতা নেই। এই সুযোগে আড়তদাররা ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস দরে তাঁর কাছ থেকে চামড়া কিনে নিয়েছে। মুনসুর রহমান ও প্রভাষ নামের দুজন চামড়া বিক্রেতা জানান, তাঁরা সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছেন। গরুর চামড়া ২৫০ থেকে সর্্বোচ্চ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। অন্যদিকে খাসির চামড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বকরির চামড়ার ১০ থেকে ২০ টাকা দর বলছে।

নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সহসভাপতি লুত্ফর রহমান লাল্টু বলেন, সরকার নির্ধারিত দামেই তাঁরা চামড়া কেনাবেচা করছেন। গত শুক্রবার কিছু ট্যানারি মালিক ও তাদের প্রতিনিধিরা চামড়া কিনতে এসেছিল। সরকার নির্ধারিত দামেই তাঁরা চামড়া বিক্রি করতে পেরেছেন।

নাটোরের বড় বড় কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীরা জানায়, নাটোরের বেশির ভাগ আড়তদার বর্তমানে মূলত কমিশনভিত্তিক চামড়া কেনাবেচা করে। তারা চামড়াপ্রতি একটি কমিশন পেয়ে থাকে। সুতরাং লাভ-ক্ষতির ব্যাপারটি নির্ভর করে যারা চামড়া নিয়ে আসছে অথবা যারা চামড়া কিনছে।

এবার চামড়া বাজারে একটি সিন্ডকেট কাজ করছে। ট্যানারি মালিকরা কিছু আড়তদারের মাধ্যমে চামড়া কিনেছে। এ জন্য কোনো কোনো ট্যানারি মালিককে তারা আগাম টাকা দিয়ে গেছে। ফলে ট্যানারি মালিক ও আড়তদার যৌথ কারসাজির মাধ্যমে চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।

এ ব্যাপারে নাটোর জেলা  চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আলম হিরু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা সরকার নির্ধারিত দামে এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনছেন। তিনি দাবি করেন, গরুর চামড়া ৮০০ থেকে হাজার টাকা, খাসির চামড়া ৯০ থেকে ১২৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে কিনছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে নাটোরের আড়তগুলোতে চামড়া আসতে শুরু করেছে। খুচরাভাবে কিছু চামড়া সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী কেনাবেচা চলছে।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহ মোহাম্মাদ রিয়াজ বলেন, ‘আমি চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কেনার আহ্বান জানিয়েছি; যাতে করে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং নাটোরের চামড়া ব্যবসার যে সুনাম রয়েছে তা অক্ষুণ্ন থাকে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা