kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রুপির বিপরীতে টাকার মান বৃদ্ধি

বাংলাদেশিদের কেনাকাটা বেড়েছে ভারতে

ফখরে আলম, যশোর   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশিদের কেনাকাটা বেড়েছে ভারতে

কলকাতাসহ ভারতের বড় বড় শহরের শপিং মলে বাংলাদেশিদের ভিড়

কলকাতাসহ ভারতের বড় বড় শহরের শপিং মলে বাংলাদেশিদের কেনাকাটা বেড়েছে। কারণ ভারতে রুপির দরপতন। বেড়েছে বাংলাদেশি টাকা, সোনা আর ডলারের দাম। রুপির সঙ্গে দৌড়ে টাকা এগিয়ে আসার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে বৈধ, অবৈধ পণ্য আমদানি। বর্তমানে ১০০ টাকা দিলে ভারতীয় ৮৪ রুপির বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

সীমান্তের ওপারে খবর নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে ডলারের দাম বেড়ে ৭২ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। বেড়েছে সোনার দামও। প্রতি ১০ তোলা সোনা বিক্রি হচ্ছে ৪০ হাজার রুপিতে। গত বৃহস্পতিবার বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোল সীমান্ত ও কলকাতা নিউ মার্কেট এলাকায় মুদ্রা বিনিময় হার ছিল বাংলাদেশি ১০০ টাকার বিপরীতে ৮৪ রুপি ৩০ পয়সা। হুন্ডিতে বিনিময় করলে টাকার দাম আরো বেশি পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহে ১০০ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছিল ৮২ রুপি ৫০ পয়সা। ডালারের দাম ছিল ৭০ রুপি ৫০ পয়সা।

টাকার দাম বৃদ্ধির কারণে কোটি কোটি টাকা ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে চোরাচালানিও বেড়েছে। কলকাতাসহ ভারতের বড় বড় শহরের শপিং মলে বাংলাদেশিদের কেনাকাটাও বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশি ১০০ টাকায় ভারতীয় ১০০ রুপি পাওয়া যেত। এরপর টাকার দাম কমতে থাকে। একপর্যায়ে তা রুপির চেয়ে অর্ধেকের কমে এসে দাঁড়ায়। টাকার দাম বৃদ্ধির কারণে সীমান্ত এলাকায় অর্থনৈতিক লেনদেন বেড়েছে। ভারতে আসা পর্যটকরা এর ফলে বাড়তি সুবিধা ভোগ করছে। একই কারণে আগের চেয়ে বেশিসংখ্যক পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারতমুখী হচ্ছে।

ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী পঙ্কজ ঘোষ বলেন, ‘তিন দিন ধরে ডলার, সোনা আর টাকার দাম বেড়ে যাচ্ছে। বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি আর ডলার সংকটের কারণে রুপির দরপতন হচ্ছে। এখন বাংলাদেশি ১০০ টাকায় ৮৪ রুপির বেশি পাওয়া যাচ্ছে।’ বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ ব্যাবসায়িক প্রতিনিধি তাজমুল হোসেন বলেন, ‘ঈদের লম্বা ছুটিতে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ ছিল। ছুটির পর ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে টাকার দাম বেড়েছে। কলকাতা রিপন স্ট্রিটের ব্যবসায়ী মুন্নাভাই বলেন, ‘টাকার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কলকাতা নিউ মার্কেট এলাকায় কেনাকাটা আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চোরাচালানের পাশাপাশি ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি হচ্ছে।’

যশোর শহরের ভাতুড়িয়া গ্রামের চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি ঈদের ছুটিতে ভারতে গিয়েছিলাম। টাকার মূল্যমান বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করেছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা