kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অস্বাভাবিক বেড়েছে সরকারিতে

তলানিতে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তলানিতে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমছেই। গত জুলাইতে বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১.২৬ শতাংশ। এটি গত ছয় অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। দীর্ঘদিন ধরেই বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী রয়েছে। তবে বেসরকারিতে কমলেও অস্বাভাবিক বেড়েছে সরকারের ব্যাংকঋণ। চলতি অর্থবছরের মাত্র ৫০ দিনেই সরকারের ব্যাংকঋণ ২৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, খেলাপি ঋণের আধিক্য, তারল্য সংকট এবং ঋণ ও আমানতের অনুপাত (এডিআর) সমন্বয়ের চাপে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণে ধীরে চলো নীতিতে রয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। অনেক ব্যাংকই শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বন্ধ করেছে। এ ছাড়া উচ্চ সুদসহ আরো কিছু কারণে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারাও ব্যাংকঋণের চাহিদা করছেন কম।

অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয়সহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে ব্যাংকব্যবস্থার ওপরই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে সরকার। কারণ অর্থবছরের শুরুতে সরকারের আয় কম থাকে। ফলে ব্যাংক থেকে ঋণ করেই ব্যয় মেটায় সরকার। এ ছাড়া আগের অর্থবছরের কিছু ব্যয়ও নতুন অর্থবছরে সমন্বয় করা হয়েছে।

সাধারণত ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাত নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ এতে ব্যাংকের ঋণযোগ্য তহবিল সরকারের কাছে আটকা পড়ে এতে বেসরকারি উদ্যোক্তারা চাহিদানুযায়ী ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। এতে ঋণের সুদহারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য অর্থনীতিবিদরা বরাবরই ব্যাংক থেকে যতটা সম্ভব কম ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাপ্ত তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারির পর থেকেই প্রতি মাসে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির রেকর্ড হয়েছে বেসরকারি ঋণের। জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয় ১৩.২০ শতাংশ। এরপর ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ১২.৫৪ শতাংশ, মার্চে ১২.৪৪ শতাংশ, এপ্রিলে ১২.০৭, মে মাসে সামান্য বেড়ে ১২.১৬ এবং জুনে তা ১১.২৯ শতাংশে নেমে আসে। আর চলতি বছরের জুলাইতে সেটি আরো কমে দাঁড়িয়েছে ১১.২৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে আরো দেখা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল রেকর্ড ২৫.৮০ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি কমে হয় ১৯.৬৮ শতাংশ। এরপর টানা তিন অর্থবছর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ আরো নাজুক অবস্থায় পৌঁছায়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয় মাত্র ১০.৮৫ শতাংশ। পরের অর্থবছর প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে হয় ১২.২৭ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা আরো কিছুটা বেড়ে হয় ১৩.১৯ শতাংশ। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতে ঋণ প্রবাহের গতি অনেকটাই জোরদার হয়। ওই অর্থবছরে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৬.৭৮ শতাংশ। এরপর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে। ওই অর্থবছরে এ খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়ায় ১৫.৬৬ শতাংশে। যদিও এর পরের অর্থবছরেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আবার বেড়ে হয় ১৬.৯৪ শতাংশ। তবে গত অর্থবছরে এটি রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পেয়ে ১১.২৯ শতাংশে নেমেছে।

চলতি অর্থবছরে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে গত ১ জুলাই থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে ২৬ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্থবছরের মাত্র ৫০ দিনেই সরকার পুরো অর্থবছরের অর্ধেকেরও বেশি ঋণ নিয়ে ফেলেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংকিং খাত থেকে ২৬ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল সরকার।

উল্লেখ্য, তারল্য সংকট ও বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়। গত অর্থবছরের শেষার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৬.৫ শতাংশ। অথচ সেই লক্ষ্যমাত্রার লাগাম টেনে চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩.২ শতাংশ এবং জুন পর্যন্ত ১৪.৮ শতাংশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি অনেকটাই বাড়িয়ে ধরা হয়েছে। গত মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০.৯ শতাংশ। নতুন মুদ্রানীতি সরকারকে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৫.২০ শতাংশ এবং জুন পর্যন্ত ২৪.৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা