kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বকেয়া আদায় নিয়ে লাইসেন্স বাতিলের দিকে হাঁটছে সরকার

পাঁচ মাসে এক-চতুর্থাংশ দর হারিয়েছে গ্রামীণফোন

বিনিয়োগকারীর শেয়ারের দাম কমেছে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা

রফিকুল ইসলাম   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাঁচ মাসে এক-চতুর্থাংশ দর হারিয়েছে গ্রামীণফোন

বকেয়া পাওনা আদায় নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে দ্বন্দ্বে গত পাঁচ মাসে এক-চতুর্থাংশ শেয়ারের দর হারিয়েছে গ্রামীণফোন। বড় মূলধনী এই কম্পানির শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পুঁজিবাজারে। মূলধন বিবেচনায় তালিকাভুক্ত ১৩ বিদেশি কম্পানির অবদান ২৫ শতাংশ, যেখানে এককভাবে গ্রামীণফোনের অবদান ১১.০৮ শতাংশ। টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি শীর্ষ মোবাইল অপারেটরটির কাছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পাওনা দাবি করছে। তবে গ্রামীণফোন সেই দাবি মানতে নারাজ। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েও বকেয়া আদায় করতে না পেরে লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্তের দিকে হাঁটছে সরকার। কেন লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে কম্পানিকে চিঠিও দিয়েছে সরকার।

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার ও গ্রামীণফোনের কঠোর অবস্থানে ক্ষতির মুখে পড়েছে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা। বকেয়া আদায় নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনার মধ্যে কঠোর অবস্থানে শেয়ারের দাম ক্রমাগতভাবেই কমছে। গত এপ্রিল থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত গ্রামীণফোনের প্রতিটি শেয়ারের দাম কমেছে ১০৭ টাকা। যাতে বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের দাম কমেছে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা।

জানা যায়, গ্রামীণফোনের কাছে সরকারের পাওনা ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। যার মধ্যে বিটিআরসি পাবে আট হাজার ৪৯৪ কোটি এক লাখ টাকা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাওনা চার হাজার ৮৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। গত ২ এপ্রিল গ্রামীণফোনের কাছে বকেয়া পরিশোধ করতে চিঠি দেয় বিটিআরসি। কিন্তু এখনো সেই বকেয়া পায়নি সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বকেয়া আদায় নিয়ে দ্বন্দ্বে গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম কমেছে ১৪ হাজার ৪৪৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। গত এপ্রিল থেকে ক্রমাগত দাম কমতে কমতে এই অবস্থায় ঠেকেছে। গত ১ এপ্রিল গ্রামীণফোনের প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৪১৭ টাকা। গতকাল রবিবার কম্পানিটির শেয়ারের দাম দাঁড়ায় ৩১০ টাকা। অর্থাৎ এই সময়ে প্রতিটি শেয়ারের দাম কমেছে ১০৭ টাকা। আর প্রতিষ্ঠানটির মোট ১৩৫ কোটি তিন লাখ শেয়ারের দাম কমেছে ১৪ হাজার ৪৪৮ কোটি ২১ লাখ টাকা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যানুযায়ী, পুঁজিবাজারের মৌলভিত্তি সম্পন্ন এই কম্পানিটির শেয়ারের দাম এক টাকা হ্রাস পেলে সূচক কমে ০.৬ পয়েন্ট। যত বেশি দাম কমবে মূল্যসূচকও ততই হ্রাস পাবে। আর এক টাকা শেয়ারের দাম হ্রাস পেলে বিনিয়োগকারীর শেয়ারের দাম কমছে ১৩৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গতকাল রবিবার গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম কমেছে ২.৪ টাকা বা ০.৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক দিনেই গ্রামীণফোনের শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছে ৩২৪ কোটি সাত লাখ টাকা।

কম্পানির তথ্যানুযায়ী, শতভাগ শেয়ারের ৯০ শতাংশই রয়েছে গ্রামীণফোনের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানায় রয়েছে সরকার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

কম্পানিটির ১৩৫ কোটি তিন লাখ ২২টি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ১২১ কোটি ৫২ লাখ ৭০ হাজার ২০টি শেয়ার। আর সরকার, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ২টি শেয়ার। সেই হিসাবে উদ্যোক্তা ও পরিচালকের শেয়ারের দাম কমেছে ১৩ হাজার তিন কোটি ৩৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা। সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে থাকা ২.১৪ শতাংশ শেয়ারের দাম কমেছে ৩০৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর হাতে থাকা ৩.৯২ শতাংশ শেয়ারের দাম কমেছে ৫৬৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, আর বিদেশি বিনিয়োগকারীর ৩.৯৪ শতাংশ শেয়ারের দাম কমেছে ৫৬৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, ‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রামীণফোনের কাছে বকেয়া আদায় নিয়ে টানাপড়েন বাজারের জন্য আতঙ্কের খবর। দীর্ঘদিন পর তাদের কাছে বকেয়া দাবি করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত ছিল; কারণ বড় মূলধনী এই কম্পানিটির প্রভাবে পুঁজিবাজার প্রভাবিত হবে। আকস্মিক ও বিলম্বিত পাওনা দাবি নিয়ে কম্পানিটির শেয়ারের দামে পতন হচ্ছে, যা কম্পানির বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারকে ক্ষতির মুখে ফেলেছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা