kalerkantho

সিসিকের উন্নয়নে ৭৮৯ কোটি টাকা

বাজেটের আকার বাড়লেও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়

সিলেট অফিস   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজেটের আকার বাড়লেও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়

আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র, সিলেট সিটি করপোরেশন

গত অর্থবছরের চেয়ে ৪১ কোটি টাকা বেশি আয় ও ব্যয় দেখিয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেটে অনেক উন্নয়ন খাতে ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে যেগুলোতে গত অর্থবছরের বাজেটেও বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু ওই সব খাতে কোনো কাজ হয়নি। এ অবস্থায় আগামী বাজেটে এগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গতকাল রবিবার নগরের একটি হোটেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৭৮৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। আগের বছরগুলোর মতো এবারও বাজেটে আয় ও ব্যয় সমান দেখানো হয়েছে।

ঘোষিত বাজেটে এবার সবচেয়ে বেশি আয় ধরা হয়েছে হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে। এই খাতে আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি আট লাখ ৮০ হাজার টাকা। গত অর্থবছরে এ খাতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত বছর লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক কর আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল করপোরেশন। অথচ গত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলেও এ বছর এই লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণের বেশি ধরা হয়েছে। এর পরই আয় ধরা হয়েছে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কর থেকে। এই খাতে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে আট কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর সিসিকের নিজস্ব বিভিন্ন খাত থেকে মোট ৭৯ কোটি ৪২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা আয় ধরা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরি খাতে ২০ কোটি, সিলেট মহানগরের অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ২০০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে আয় বাবদ মোট ৭৪ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

বাজেটে উল্লেখযোগ্য ব্যয় খাতের মধ্যে রাজস্ব খাতে ৬৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, রাজস্ব খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন বাবদ ৫২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাতে ২০ কোটি টাকা, সরকারি মঞ্জুরি খাতে ১০ কোটি টাকা, অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকা, নগরের ১১টি ছড়া সংরক্ষণ ও আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ৩৪ কোটি টাকা, ভারতীয় অর্থায়নে অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প খাতে ১০ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমা জমি অধিগ্রহণ ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা, দক্ষিণ সুরমা শেখ হাসিনা শিশু পার্কে রাইড স্থাপন প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অন্যান্য কাজে জমি অধিগ্রহণ বাবদ ৭৪ কোটি টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্যানিটারি ল্যান্ড ফিল্ড নির্মাণ প্রকল্প খাতে ৫০ কোটি টাকা, আইসিটি ভবন নির্মাণ, ধোপাদিঘীতে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে ৭৪ কোটি টাকা প্রভৃতি।

বাজেট বক্তৃতায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম বাজেট। নির্বাচনী ইশতেহারে নগরবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আলোকেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এরই মধ্যে সিলেট শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করেছি। ড্রেন ও ছড়া প্রশস্ত করায় এটি সম্ভব হয়েছে। সিলেটকে আধুনিক ও ডিজিটাল শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চান বলে জানান তিনি।

মন্তব্য