kalerkantho

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে আর টাকা ঢালবে না সরকার : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে আর টাকা ঢালবে না সরকার : অর্থমন্ত্রী

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে সরকার এখন থেকে আর টাকা দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে নিজের টাকায় চলতে হবে। গতকাল রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে রিফাইন্যান্সিং (পুনরর্থায়ন) করা হবে না। বাজেটে এসব ব্যাংকের জন্য কোনো টাকা রাখা হবে না। ব্যাংকগুলোকে নিজেদের আয়েই চলতে হবে। গ্রাহককে উন্নত ও আধুনিক সেবা দিতে হবে। গ্রাহকের কাছ থেকে পাওয়া টাকা দিয়েই ব্যাংকগুলোকে চলতে হবে।

বৈঠকে অর্থসচিব আবদুর রউফ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ, সোনালি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডি, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান, রূপালী ব্যাংকের এমডিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণসহ নানা কারণে মূলধন ঘাটতি থাকায় তা পূরণে সরকার প্রতিবছর বাজেটে তাদের জন্য আলাদা করে বরাদ্দ রাখে। বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর চাহিদা পূরণ করে আসছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত মূলধন, সুদ, ভর্তুকিসহ নানা উপায়ে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি ব্যাংকে মোট ১২ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা দিয়েছে। বাজেট থেকে এসব ব্যাংকে টাকা দেওয়ায় কঠোর সমালোচনা করে আসছে বেরসকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। জনগণের করের টাকায় ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে বাজেট থেকে টাকা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন আছে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও। বিভিন্ন মহল থেকে ক্রমাগত সমালোচনা আসায় অবশেষে অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে পুনরর্থায়ন বন্ধের এমন ঘোষণা এলো।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংকগুলোকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি এখন থেকে তাদেরকে আর পুনরর্থায়ন করা হবে না। তাদের নিজেদের আয়ে চলতে হবে এবং তাদেরকে করও দিতে হবে। তাদেরকে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মপরিকল্পনাটি তৈরি করতে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী রবিবার তারা কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আবার আমার কাছে আসবে। সরকার এসব পরিকল্পনা দেখে তাদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে।

গত সপ্তাহে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নতুন নিয়োগের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন যাঁরা ব্যবস্থাপনায় এসেছেন তাঁরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ; জ্ঞানী। তাঁরা সবাই যদি অভিজ্ঞতার আলোকে ও দেশের চাহিদার নিরিখে ব্যাংক পরিচালনা করেন তাহলে ভালো কিছু বয়ে আনবেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের যে সম্পদ আছে, তার সুষ্ঠু ব্যবহার করে অন্তত ১৫ শতাংশ লাভ করুক আমরা সেটাই চাই।’ খলাপি ঋণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, মন্দ ঋণ এখনো কমাতে পারিনি। এটা সত্য। কারণ, এক্সিট প্ল্যান বাস্তবায়ন না হওয়ায় খেলাপি ঋণ বেশি দেখাচ্ছে। খেলাপি ঋণ কমানোর পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হলেই খেলাপি ঋণ অনেক কমে আসবে। তবে এই এক্সিট প্ল্যানের ওপর আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। এটা বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না। আইনের দ্রুত সুরাহা হলেই খেলাপি ঋণের বর্তমান চিত্র থাকবে না। আইনটি বাস্তবায়নাধীন থাকায় অনেক ব্যবসায়ী খেলাপি ঋণ পরিশোধ করছেন না বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশে রপ্তানি কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। পুুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন অর্থমন্ত্রী।

মন্তব্য