kalerkantho

চট্টগ্রামে ২৮ বছরে নতুন বিনিয়োগ নেই ট্যানারিতে

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামে ২৮ বছরে নতুন বিনিয়োগ নেই ট্যানারিতে

গত ২৮ বছরে চট্টগ্রামে নতুন কোনো চামড়াজাত শিল্প বা ট্যানারি গড়ে ওঠেনি। স্বাধীনতার পর চট্টগ্রামে ট্যানারি ছিল ২২টি। বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র একটি ট্যানারি। অভিজ্ঞতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে একে একে বন্ধ হয়ে যায় ২১টি ট্যানারি।

মালিক ও ব্যবসায়ী সংগঠন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে সর্বশেষ ১৯৯১ সালে টি কে গ্রুপ ট্যানারি স্থাপন করে। নগরীর কালুরঘাট শিল্প এলাকায় রিফ লেদার নামের এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটিই বর্তমানে চট্টগ্রামের একমাত্র চামড়া ও চামড়াজাত কারখানা।

এ প্রতিষ্ঠানের পর গত ২৮ বছরে নতুন করে কেউ ট্যানারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে বিনিয়োগ করেনি। পক্ষান্তরে পাকিস্তান আমলে স্থাপিত ট্যানারিগুলো একে একে বন্ধ হতে থাকে।

চট্টগ্রামে চামড়াশিল্পের শুরু ১৯৪৮ সালে। লাভজনক থাকায় কালুরঘাট শিল্প এলাকাকে কেন্দ্র করে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ধীরে ধীরে এখানে গড়ে ওঠে ১৬টি ট্যানারি। স্বাধীনতার পর গড়ে ওঠে আরো পাঁচটি। কিন্তু সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং এই শিল্প পরিচালনায় অনভিজ্ঞতা, অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন কারণে এসব ট্যানারি বন্ধ হয়ে যায়।

চট্টগ্রামে ট্যানারিশিল্পের সংকট এবং ক্রমাগতভাবে ট্যানারি বন্ধের কারণ সম্পর্কে রিফ লেদারের পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মার্কেটিং) মুখলেসুর রহমান বলেন, সত্তর দশকের মাঝামাঝি ও আশির দশক থেকে চামড়াশিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। সেই সঙ্গে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বিপণন ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। চট্টগ্রামের ট্যানারিগুলোতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার না হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিপণনে আধুনিকতা আনতে না পারা একটি বড় কারণ বলে উল্লেখ করেন। এর সঙ্গে সরকারের কার্যকর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবের কথাও বলেন মুখলেসুর রহমান।

চামড়াশিল্প নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ব্যক্তি বলেন, একসময় চট্টগ্রামে যেসব ট্যানারি ছিল, এর প্রায় সবই পাকিস্তান আমলে গড়ে উঠেছিল। শুধু রিফ লেদার স্থাপিত হয় ১৯৯১ সালে। তিনি বলেন, সেই সময় যেসব ব্যবসায়ী ছিলেন, তাঁদের বংশপরম্পরায় অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁরা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কাঁচা চামড়া ভালোভাবে দেখে ও বুঝে সংগ্রহ করতেন বা কিনতেন। এ ছাড়া চামড়া প্রক্রিয়াজাত থেকে পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত ভালো অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। না হলে এ খাতে টিকে থাকা কঠিন।

চট্টগ্রামে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্যানারিগুলো হলো ওরিয়েন্ট, মন্টি, হিলটন (পরবর্তী সময়ে এইচআরসি), জামান রহমান, সিকো লেদার, কর্ণফুলী, জুবিলী ট্যানারি, এশিয়া, মেট্রোপলিটন, চিটাগাং ট্যানারি উল্লেখযোগ্য। ইটিপি স্থাপন না করায় পরিবেশগত ঝামেলায়  গত বছর সর্বশেষ বন্ধ হয়ে যায় মদিনা ট্যানারি।

রিফ লেদারের অপারেশনস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের এই পরিচালক বলেন, চট্টগ্রামের ট্যানারিগুলো থাকলে চট্টগ্রামের চামড়া ব্যবসায়ীরা ঢাকামুখী হতো না। চামড়াশিল্পকে রক্ষা করতে হলে ট্যানারি মালিকদের মতো চামড়ার আড়তদারদেরকেও স্বল্প সুদে ব্যাংকঋণ প্রদানের ব্যবস্থার কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, চট্টগ্রামে একমাত্র রিফ লেদার লিমিটেডের ইটিপি আছে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ৬০-৭০ হাজার পিস চামড়া কিনেছিল। এ ছাড়া সারা বছরই প্রতিষ্ঠানটি চামড়া কিনে থাকে।

চামড়াশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে দেশে পরিবেশসম্মতভাবে বেশি বেশি চামড়াজাত পণ্যের ফ্যাক্টরি গড়ে তুলতে হবে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে অধিক মাত্রায় শুল্কারোপ করতে হবে। তিনি জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ ছেড়ে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মিয়ানমারের দিকে চলে যাচ্ছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে।

মন্তব্য