kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর

চায়ে শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় ভারত

সুবিধা দিলে ক্ষতির মুখে পড়বে স্থানীয় চাশিল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চায়ে শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় ভারত

শুল্কমুক্ত সুবিধায় বাংলাদেশের বাজারে ত্রিপুরার চায়ের প্রবেশাধিকার চায় ভারত। বাংলাদেশে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করের দুই দিনের আসন্ন সফরে এই সুবিধা প্রদানের বিষয়ে ভারতের প্রস্তাবের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মো. শহিদুল হকের সঙ্গে এক বৈঠক করেন। এ সময় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সুবিধায় যে বিষয়গুলো তারা উত্থাপন করছে তার অগ্রগতির বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলতে পারেন বলে জানানো হয়।

জানা গেছে, বর্তমানে দেশে চা আমদানিতে ৯২ শতাংশ শুল্ক এবং কর আরোপ করা আছে। আর ভারতে চায়ের আমদানির ওপর ১০৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা আছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব এনবিআর চেয়ারম্যানকে একটি চিঠিও দিয়েছেন। যে চিঠিতে শুল্কমুক্ত সুবিধার প্রস্তাবনার বিষয়ে মতামত জানাতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় চায়ের উৎপাদকরা বলছেন, দেশের চাশিল্প ধীরে ধীরে বাড়ছে। চা রপ্তানির আওতাও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। ভারতকে এ জাতীয় সুবিধা দিলে দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতির মুখে পড়বে। এমনিতেই ত্রিপুরার চা পাচার হয়ে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দেশের অন্যতম বড় চা উৎপাদক প্রতিষ্ঠান কাজী অ্যান্ড কাজী টির চিফ অপারেটিং অফিসার আসমাউল রুখসানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ত্রিপুরার চা শুল্কমুক্ত সুবিধায় দেশে প্রবেশ করলে স্থানীয় শিল্প অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্থানীয় বাজারে চাহিদা বেড়েছে, রপ্তানিও বাড়ছে। শুধু চা রপ্তানির পাশাপাশি বাংলাদেশ এখন ব্র্যান্ড হিসেবে চা রপ্তানির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সময়ে শুল্কমুক্ত সুবিধায় চা এলে স্থানীয় উৎপাদকদের ওপর বড় ধাক্কা আসবে।’

এদিকে ভারতের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ চা সংসদের চেয়ারম্যান ও ডানকান টির পরিচালক এম শাহ আলম বলেন, ‘অনুরোধ জানাচ্ছি দেশীয় চাশিল্পের স্বার্থেই সরকার যেন দাবিটি গ্রহণ না করে। পাশাপাশি বিদ্যমান শুল্ক কাঠামোতেও পরিবর্তন না আনে।’

তিনি বলেন, ত্রিপুরা থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় চা আমদানির অনুমতি দিলে স্থানীয় চাশিল্প ধ্বংসের মুখোমুখি হবে। কারণ ভারতের চায়ের সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালে সারা দেশের ১৬৬টি চা বাগানে ৮২.১৩ মিলিয়ন কেজির বেশি চা উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে বেশি।

এর আগে শিলিগুড়ি বা কলকাতার বাজারের নিলামের দীর্ঘ যাত্রা এড়াতে ত্রিপুরার উনাকোটির কৈলশহরের মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলে একটি চা নিলাম কেন্দ্রের মাধ্যমে চা রপ্তানির পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সও বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের কাছে উত্থাপন করেছিল।

মন্তব্য