kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

হাওরের নীল জলে মুগ্ধ পর্যটকরা

টাঙ্গুয়ার অবকাঠামো না থাকায় ভোগান্তি

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ   

১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাওরের নীল জলে মুগ্ধ পর্যটকরা

দেশ-বিদেশের মানুষ সময় পেলেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছে টাঙ্গুয়ার হাওরে। ছবি : কালের কণ্ঠ

টাঙ্গুয়ার হাওর একসময় মাদার ফিশারিজ হিসেবে বহুল পরিচিত ছিল। গত এক দশকে সেই খ্যাতি পেছনে ফেলে দেশের অনন্য রূপবৈচিত্র্যের এ জলাভূমি এখন অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। দেশ-বিদেশের হাজারো দর্শনার্থীকে সৌন্দর্যে মুগ্ধ করছে প্রতিদিন। হাওরের অনাবিল রূপে আকৃষ্ট হয়ে পর্যটকরা আসছেন দলে দলে। নীলাভ জলথৈথৈ বুকে মেঘালয় পাহাড়ের দীর্ঘ নীল ছায়া কেটে কেটে বোট নৌকায় ঘোরে তারা। এবারও ঈদের আনন্দে বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে এসেছে হাজারো পর্যটক। গোলাবাড়ি ক্যাম্পের সুউচ্চ টাওয়ারে ওঠে টাঙ্গুয়ার নীলাভ ও বিস্তৃত জলরাশি দেখে প্রাণ জুড়ায়। তবে অবকাঠামো না থাকায় এবং অতিরিক্ত নৌকা ভাড়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়ে তারা।

১৯৯৯ সালে হাওরটির আয়তন ছিল ৯ হাজার ৭২৭ হেক্টর। ২০১৬ সালের সর্বশেষ জরিপে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে আয়তন হয় ১৫ হাজার হেক্টর। ২০০০ সালে বিশ্বের ১০৩১টি রামসার সাইটের মধ্যে টাঙ্গুয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইটের সম্মান বয়ে আনে। হাওরবাসীর আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন, সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ২০০১ সালে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ২০০৩ সালে হাওরের নিয়ন্ত্রণ নেয় জেলা প্রশাসন। ২০০৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ হয় সরকারি বেসরকারিভাবে। স্থানীয়দের অভিযোগ হাওরটি অব্যবস্থাপনা-অরক্ষিত অবস্থায় আছে।

অসংখ্য জলজ-স্থলজ জীববৈচিত্র্যে অনন্য হাওরটিতে শীতে বেড়াতে আসে পাখির মিছিল। হাওরে রয়েছে ৫২ বিল, ১২০ কান্দা-জাঙ্গাল। ১৪১ প্রজাতির মাছ, ২০০ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২১৯ প্রজাতির পাখি, ৯৮ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি, ১২১ প্রজাতির দেশি পখি ইত্যাদি। এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিকতার প্রতিনিধিত্বকারী নামগুলোও পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। জানা গেছে, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী তাহিরপুরে এসে টাঙ্গুয়ার হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। টাঙ্গুয়ায় পর্যটকদের স্রোত দেখে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালের ৯ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এ হাওরসহ পার্শ্ববর্তী পরিত্যক্ত টেকেরঘাট, বড়গোপটিলা ও যাদুকাটাকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করেছিল। ওই সময় করপোরেশন টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা, বড়গোপটিলা ও টেকেরঘাট মিলিয়ে প্রায় ৫০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য গেজেট প্রকাশ করে। পরবর্তী সময় জেলা প্রশাসন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান বরাবর অবকাঠামো নির্মাণের আবেদন করলেও গত ছয় বছরে কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে পর্যটকদের ঝুঁকি নিয়ে রাতে নৌকায়ই অবস্থান করতে হচ্ছে। তার পরও টাঙ্গুয়ার রূপমাধুর্যের টানে ছুটে আসছে পর্যটকরা।

তা ছাড়া সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন টাঙ্গুয়ায় অন্যায্য বোটভাড়া নির্ধারণ করেছে বলে পর্যটকদের অভিযোগ। আগের তুলনায় ভাড়া হঠাৎ করে দ্বিগুণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। উপজেলা প্রশাসন নির্ধারিত ভাড়া হিসেবে ১০ জন উপযোগী নৌকা রাত-দিনের জন্য আট হাজার, ১৫ জন উপযোগী নৌকা ১২ হাজার এবং ২০ জন উপযোগী নৌকা ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক বছর আগেও এই ভাড়া অর্ধেক ছিল বলে পর্যটকরা জানান।

সম্প্রতি সপরিবারে সুনামগঞ্জ থেকে বেড়াতে যান ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর এখন আমাদের ব্র্যান্ড। দেশ-বিদেশের মানুষজন সময় পেলেই সৌন্দর্যে অবগাহন করতে ছুটে আসছে। এতে স্থানীয়ভাবে কাজের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু থাকা-খাওয়া ও বিশ্রামের সুব্যবস্থাপনার অভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই ব্যবস্থার উন্নতি হলে টাঙ্গুয়ার রূপে আরো আকৃষ্ট হবে পর্যটকরা।

পর্যটন সংগঠন তেপান্তরের পরিচালক বাবরুল হাসান বাবলু বলেন, এখন সারা বছরই পর্যটকরা আসে টাঙ্গুয়ায়। শুক্র-শনিবার ভিড় থাকে বেশি। বিশেষ করে দুই ঈদে কয়েক দিন উৎসবমুখর থাকে হাওর। কিন্তু হঠাৎ করে দুই সপ্তাহ আগে অন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা উচিত ছিল। তিনি বলেন, আগে নৌকা ভাড়া দিনে ১২০০-১৫০০ টাকা ছিল। এখন সেই ভাড়া চার হাজার টাকা করা হয়েছে, যা অন্যায্য।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকরা সারা বছরই আসে। সম্প্রতি ভাড়া নির্ধারণ করায় পর্যটকদের ভালো হয়েছে। এখন আর বোট মালিকরা গলাকাটা দাম চাইতে পারবে না। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটকদের স্রোত দেখে আমরা মন্ত্রণালয়ে প্রায় চার কোটি টাকার প্রকল্প জমা দিয়েছি। আধুনিক একটি রিসোর্ট নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা