kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

চামড়ার দরপতনে এতিমখানা ও কওমি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিপাকে

তোফাজ্জল হোসেন লুতু, সৈয়দপুর (নীলফামারী)   

১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চামড়ার দরপতনে এতিমখানা ও কওমি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিপাকে

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কোরবানীর ক্রয়কৃত চামড়া। ছবি : কালের কণ্ঠ

এবারে কোরবানির চামড়ার দরপতনে চরম বিপাকে পড়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা এতিমখানা ও কওমি মাদরাসা কর্তৃক পরিচালিত লিল্লাহ বোর্ডিংগুলোর কর্তৃপক্ষ। তারা এখন এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলো কিভাবে চালাবেন তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিবছরই ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির পর চামড়া মূলত বিভিন্ন এতিমখানা, মসজিদ ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দেওয়া হয়। আর ওই সব সংগৃহীত চামড়া বিক্রির অর্থে এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দ্বিনি শিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের খাবারের জোগান হয়ে থাকে। কিন্তু এবারে চামড়ার দাম না থাকায় ওই সব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কারণ এবারে কোরবানিতে পাওয়া চামড়া পানির দামে বিক্রি করে যে অর্থ পেয়েছেন তাঁরা তাতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবস্থানকারী দ্বিনি শিক্ষার শিক্ষার্থীদের এক মাসেরও খাবারের জোগান দেওয়া সম্ভব হবে না। এ নিয়ে সম্প্রতি সকালে সৈয়দপুর শহরের দারুল রুহুল ইসলাম মাদরাসার পরিচালক মাওলারা মোহাম্মদ হারুন রেয়াজীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, শহরের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী এ মাদরাসাটি স্থাপিত হয় ১৯২৬ সালে। এ প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৪ শত শিক্ষার্থী দ্বিনি শিক্ষা গ্রহণ করছে।

তিনি জানান, প্রতিবছর কোরবানির ঈদে এলাকার লোকজন কয়েক শত পশুর চামড়া মাদরাসায় দান করে। আর ওই চামড়া বিক্রির অর্থে মাদরাসা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে থাকা আবাসিক শিক্ষার্থী প্রায় ছয় মাসের খাবার সংস্থান হয়। এবারে কোরবানি ঈদে মাদরাসার ফান্ডের জন্য ৩৯৯ পিস গরুর চামড়া এবং ১৮১ পিস ছাগলের চামড়া মিলেছে। কিন্তু এবারে বিক্রি করা চামড়ার অর্থে লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের ছাত্রদের এক মাসেরও খাবার সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

শহরের কাজীপাড়ায় অবস্থিত আল-জামিআ’তুল আরাবিয়া আল ইসলামিয়া মাদরাসা মহতামিম মাওলানা আবুল কালাম কাসেমী জানান, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর মাদারাসায় প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী ইসলাম শিক্ষা গ্রহণ করছে। তারা সবাই আবাসিক শিক্ষার্থী। এবারের কোরবানিতে মাদরাসার ফান্ডে ২৯২ পিস গরুর এবং ৭০ পিস ছাগলের চামড়া পাওয়া গেছে, যা বিক্রি করে মিলেছে ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা। ওই অর্থে আবাসিক ছাত্রদের এক-দেড় মাসের খাবার চালানো যাবে। বছরের অন্য মাসগুলো কিভাবে চলবে এ চিন্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তিনি। তিনি জানান, কওমি মাদরাসাগুলোর আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে কোরবানির চামড়া। সেই চামড়ার এবারে দাম নেই। সৈয়দপুর শহরের মিস্ত্রিপাড়ার চামড়া ব্যবসায়ী মো. রিপন জানান, আমরা বংশপরম্পরায় চামড়া ব্যবসায় জড়িত। অত্যধিক গরমের কারণে তাঁর কিছু ক্রয়কৃত চামড়া নষ্ট হয়েছে। সম্প্রতি তাঁর বাড়িসংলগ্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্রয়কৃত চামড়া প্রক্রিয়াকরণ করে স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা