kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

চোরাপথে আসছে বিপুল পরিমাণ সুপারি

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চোরাপথে আসছে বিপুল পরিমাণ সুপারি

অবৈধ পথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ সুপারি আসায় আমদানিতে ধস নেমেছে। এতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না; আর সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দেশীয় উৎপাদকরাও মার খাচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের স্থল সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ এবং সুপারি আমদানিতে বিদ্যমান ট্যারিফ যৌক্তিক করার দাবি করছে আমদানিকারকরা।

সুপারি আমদানিতে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের মেসার্স নীল কৃষ্ণ দাশ মজুমদার। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর একাই ৩০০ থেকে ৪০০ কনটেইনার (পাঁচ হাজার টন) সুপারি আমদানি করত। ২০১৫ সালের পর আমদানি কমাতে কমাতে এখন বছরে এক হাজার টনের বেশি আমদানির সাহস পাচ্ছেন না।

কেন জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার অজয় কৃষ্ণ দাশ মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতি কেজি আমদানীকৃত সুপারি খাতুনগঞ্জের পাইকারিতে বিক্রি করছি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। এর মধ্যে কেজিতে ১৬০ টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে সরকারকে। অথচ চোরাই পথে যারা আনছে তারা প্রথমত কম দামে কিনছে আর কোনো শুল্ক ছাড়াই অবৈধভাবে দেশে আনছে। তারা প্রতি কেজি ২৩০ টাকায় বিক্রি করছে। আমরা বৈধ পথে-বৈধভাবে সরকারকে রাজস্ব দিয়েও এক অসম প্রতিযোগিতায় পড়েছি। এই অবস্থায় আমদানি কমাতে বাধ্য হচ্ছি।

তিনি বলছেন, চোরাকারবারিরা ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড থেকে সুপারি সংগ্রহ করে মিয়ানমারে নিয়ে গুদামজাত করে। সেখান থেকে ভারতের আসাম-মেঘালয় থেকে সিলেট সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। সিলেটের বিভিন্ন বাজারে দেদার বিক্রি হচ্ছে এসব সুপারি।

জানা গেছে, আগে থেকেই সুপারি আমদানিতে ট্যারিফ নির্ধারণ করা ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালে সুপারি আমদানিতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের টাকা পাচারের বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ার পর কঠোর হয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এরপর ট্যারিফ বাড়িয়ে দিয়ে এক লাফে ১৭৫০ ইউএস ডলার নির্ধারণ করা হয়। মূলত এরপর থেকেই সুপারি আমদানিতে বৈধ ও আসল ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পড়েন। চোরাই পথে সুপারি আসা বেড়ে যাওয়ায় দাম নিয়ে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা চরম প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে যান। সুপারি আমদানিকারক আযম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ব্যাংকঋণ নিয়ে বৈধভাবে আমরা ব্যবসা করছি; সরকার শুল্ক পাচ্ছে। চোরাই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি; পুঁজি হারাচ্ছি। এভাবে আর কত দিন। সরকারের উচিত যারা শুল্ক দিয়ে ব্যবসা করছে তাদের সহযোগিতা করা।

আমাদের দাবি সুপারি আমদানিতে নির্দিষ্ট করা ট্যারিফ প্রতি টন ১৭৫০ ডলার থেকে কমিয়ে যৌক্তিক করা। আন্তর্জাতিক বাজারে টনপ্রতি ১৩০০ থেকে ১৩৫০ ডলারে সুপারি পাওয়া যাচ্ছে। আর বর্তমান উচ্চ শুল্কহার কমিয়ে আনা।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, সুপারি আমদানিতে ট্যারিফ নির্দিষ্ট করা আছে প্রতি টন ১৭৫০ ডলার; যেকোনো দেশ থেকে আমদানি হোক না কেন এই দামের ওপর শুল্কায়ন হবে। এর ওপর ১০৭ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। নতুন বাজেটে সুপারির শুল্কহারে কোনো হেরফের হয়নি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ১ নম্বর গ্রুপে আমদানীকৃত সুপারির শুল্কায়ন করা হয়। চার বছর আগেও এই শাখায় রাজস্ব আয়ে সুপারিই ছিল অন্যতম।

সংশ্লিষ্ট গ্রুপের সহকারী কমিশনার কামনাশীষ বলেন, চোরাচালানের কারণে যদি সুপারি আমদানি কমে যায় তাহলে বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হবে। এখন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সুপারি আমদানি খুব বেশি হয় না।

সুপারি আমদানির সিঅ্যান্ডএফ কাজে জড়িত প্রিমিয়ার শিপিং করপোরেশনের কর্ণধার রতন বাবু বলেন, প্রতি ২০ ফুট কনটেইনারে ৩০ লাখ টাকা শুল্ক পাচ্ছে কাস্টমস। কিন্তু চোরাই পথে সুপারি আসায় আমদানি একেবারেই কমে গেছে। রাজস্ব আয়ও কমেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা