kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে টিসিবির পেঁয়াজ

খুচরা বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে
দুই কেজি করে কেনার সুযোগ পাচ্ছে ক্রেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে টিসিবির পেঁয়াজ

ছবি : কালের কণ্ঠ

পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা ঠেকাতে স্বল্প পরিসরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় বিক্রি করছে সরকারি সংস্থাটি। টিসিবির কয়েকটি বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি ক্রেতার কাছে দুই কেজি করে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।

খামারবাড়ি টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্রে দেখা গেছে, টিসিবির ট্রাকের মধ্যে একটি করে ব্যাগে দুই কেজি করে পেঁয়াজ রাখা হয়েছে। ফলে ক্রেতারাও দ্রুত পণ্যটি নিয়ে যেতে পারছে। তবে একসঙ্গে বাড়তি ভিড় লক্ষ করা না গেলেও অনেক ক্রেতাকে এই পেঁয়াজ কিনতে দেখা গেছে। পেঁয়াজ কিনতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী মনিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অস্থিরতার এই সময়ে ৪৫ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজ খানিকটা স্বস্তি দিচ্ছে।’

রফিকুল ইসলাম নামের টিসিবির এক ডিলার খামারবাড়িতে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। তিনি জানান, সকাল সোয়া ৯টা থেকেই বিক্রি শুরু করেন। টিসিবির কাছ থেকে এক হাজার কেজি পেঁয়াজ নিয়েছেন তিনি। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দেখা গেছে, এই ডিলার তাঁর দুই-তৃতীয়াংশ পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সকাল থেকেই অনেক ক্রেতা আসছে। চাহিদা থাকার কারণেই প্রচুর বিক্রি হচ্ছে।’

প্রেস ক্লাবের পাশে বসা টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্রে বেশ ভিড় লক্ষ করা গেছে। তবে পেঁয়াজের পরিমাণ আরো একটু বাড়ালে ভালো হতো বলে জানিয়েছেন অনেক ক্রেতাই। হাবিবুর রহমান নামের এক ক্রেতা দাবি করেন, পেঁয়াজের বাজারে এই উদ্যোগ অবশ্যই ভালো। তবে পরিমাণটা দুই কেজি থেকে আরো একটু বাড়ালে ভালো হতো।

টিসিবির ডিলার মো. বশির আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ক্রেতার চাপের তুলনায় পণ্যের পরিমাণ অনেক কম। এ কারণেই দুই কেজি করে বিক্রি করতে বলা হয়েছে।’

এদিকে টিসিবি মাত্র পাঁচটি ট্রাকে করে পাঁচটি স্থানে পেঁয়াজ বিক্রি করছে বলে জানা গেছে। টিসিবি দাবি করছে, এই ট্রাকগুলোকেই সারা দিনে দুটি করে স্থানে পেঁয়াজ বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রেস ক্লাব ও খামারবাড়ির ট্রাকগুলোকে সারা দিন একই স্থানে পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে।

টিসিবির তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে পেঁয়াজের পরিমাণ বাড়ানো হবে। তবে ঠিক কত দিন বিক্রি চলবে তার নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।’

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর খুচরা বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আমদানি করা পেঁয়াজের দাম সামান্য পরিমাণে কমলেও তা এখনো নাগালের বাইরে। আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বাজারভেদে ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে, যা গত সোমবারেও ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে দেশি পেঁয়াজ এখনো অধিকাংশ খুচরা দোকানিই ৮০ টাকায় বিক্রি করছে। কিছু কিছু দোকানে ৭৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানি করা ও দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। সে হিসেবে খুচরা বাজারে দুই প্রকারের পেঁয়াজেরই দাম কমার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেশি পেঁয়াজের দাম কমেনি। গুলশানের গুদারাঘাট কাঁচাবাজারের বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম ৮০ টাকা কেজি দরে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আগের দামে পেঁয়াজ কেনা। তাই দাম কমাতে পারছি না।’ অস্থিরতার শুরুতে আগের দামে কেনা পেঁয়াজ বেশি দামে বিক্রি করেছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবাই যা করেছে আমিও তাই করেছি।’

উল্লেখ্য, নিজেদের বাজারে ঘাটতি তৈরি হওয়ার কারণে ভারত প্রতি টন পেঁয়াজের সর্বনিম্ন রপ্তানি মূল্য ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে। গত শুক্রবারের এই খবরের পর থেকেই পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। অথচ পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে পেঁয়াজের কোনো প্রকার ঘাটতি লক্ষ করা যায়নি। তবুও পেঁয়াজের দাম ওঠে ৮০ টাকায়। আমদানি ও খুচরা উভয় পেঁয়াজ একই দামে বিক্রি হতে থাকে।

জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। যে পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বল্প পরিসরে হলেও ৪৫ টাকা কেজি দরে শুধু ঢাকাতে টিসিবি পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। এর প্রভাবেই খুচরা বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা