kalerkantho

রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫৪০০ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫৪০০ কোটি ডলার

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৪ বিলিয়ন বা পাঁচ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানিতে ৪৫.৫০ বিলিয়ন ডলার ও সেবা রপ্তানিতে ৮.৫০ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া পণ্যে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১২.২৫ শতাংশ আর সেবায় ৩৪.১০ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৪ বিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০ বিলিয়ন ডলার বেশি ধরা হয়েছে। গতকাল বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণসংক্রান্ত সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রপ্তানির যে লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছে, তা অর্জন কঠিন কিছু নয়। রপ্তানিকাররা আন্তরিক হলে সহজেই এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত বছর রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.৫৫ শতাংশ। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে ১১.৪৯ শতাংশ, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে ৩৪.৯২ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিতে ২১.৬৫ শতাংশ এবং ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য রপ্তানিতে ২৫.৬০ শতাংশ।’ তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ বিলিয়ন ডলার থাকলেও রপ্তানি হয়েছে ৪৬.৮৭ বিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে আমরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার বেশি আয় করেছি। গত অর্থবছর পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.৫৫ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪৬.০৬ শতাংশ। মোট রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪.৩০ শতাংশ।’

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে টেক্সটাইল পণ্য, পাট, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, কৃষিপণ্য, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, প্লাস্টিক এবং সিরামিক। মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে ৩৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, হোম টেক্সটাইলে দশমিক ৮৯১ বিলিয়ন ডলার, পাট ও পাটজাত পণ্যে দশমিক ৮২৪ বিলিয়ন ডলার, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ১ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার, ফার্মাসিউটিক্যালসে দশমিক ১৬৯ বিলিয়ন ডলার, কৃষিপণ্যে ১ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার, এনার্জি পণ্যে দশমিক ৩৬৯ বিলিয়ন ডলার, ফ্রোজেন ও মাছে দশমিক ৫২০ বিলিয়ন ডলার, প্লাস্টিক পণ্যে দশমিক ১৫০ বিলিয়ন এবং সিরামিক পণ্যে দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া সরকারি পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৪ দশমিক ২৫৬ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৪৭.৫৯ শতাংশ; ব্যবসা খাতে ১ দশমিক ২৫০ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ২৭.৫৫ শতাংশ;  যোগাযোগ খাতে দশমিক ৭৬০ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৪.৬৭ শতাংশ; আইসিটি খাতে দশমিক ৬১৩ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১১.৬৫ শতাংশ; ট্রাভেল খাতে দশমিক ৪০০ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮.৭৪ শতাংশ; কম্পিউটার খাতে দশমিক ২৮০ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ২৪.৪৩ শতাংশ।

সভায় রপ্তানিকারকরা বলেন, ‘রপ্তানি আয়ে সুখবর নিয়েই অর্থবছর শুরু হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এর মূল কারণ দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি। এ ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে অন্যান্য খাতেরও আয় ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। ফলে রপ্তানিতে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। আশা করছি, আগামীতেও আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) তপন কান্তি ঘোষ, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ)  মো. শফিকুল ইসলাম, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা ইয়াসমিন, ডাব্লিউটিও উইংয়ের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. কামাল হোসেন এবং বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য