kalerkantho

প্রণোদনায় ২০০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্সের আশা অর্থমন্ত্রীর

নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে অনুমোদন ছাড়াই আমদানি করতে পারবে টিসিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠালেই ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা পাবে। জুন থেকে চালু হওয়া এ সুবিধার কারণে চলতি অর্থবছর ২০ বিলিয়ন ডলার বা দুই হাজার কোটি ইউএস ডলার রেমিট্যান্স আসবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এদিকে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এক হাজার ২৭৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে টিসিবির পণ্য কেনা ক্ষমতাটি উল্লেখযোগ্য। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে সেসব পণ্য সংগ্রহ করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে কোনো অনুমোদন লাগবে না ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি)। এ ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনেরও প্রয়োজন হবে না। আর এ কেনাকাটার কোনো আর্থিক সীমাবদ্ধতা নেই। বৈঠক শেষে কমিটির অনুমোদনকৃত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রী।

রেমিট্যান্সের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতালি, সৌদি আরবসহ কিছু দেশ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের ওপর চার্জ বসিয়েছে। তাই প্রবাসীরা হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকে। ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার ফলে তারা আর হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাবে না। ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে সেটি বেড়ে ২০ বিলিয়ন ডলার হবে বলে আশা করছি।

প্রণোদনা দেওয়ায় প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, যে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাবে সে ব্যাংকই তাদের প্রণোদনার অর্থ দেবে। পরবর্তীতে ব্যাংকগুলোকে সরকার সে অর্থ পরিশোধ করে দেবে।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সর্বমোট পাঁচ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, প্রয়োজন অনুসারে অনুমোদন ছাড়াই টিসিবির পণ্য কেনার প্রস্তাব। এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বলেন, টিসিবির কেনাকাটায় কোনো আর্থিক সীমাবদ্ধতা নেই। তবে জাতীয়ভাবে আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব জিনিস যেমন : পেঁয়াজ, রসুন, আদা বা যেকোনো সময় যেকোনো পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। হাঠাৎ করে যেসব পণ্যের দাম বাড়বে সেটা টিসিবি যেখানেই পাক সেখান থেকেই কিনে চাহিদা মেটাতে পারবে। এর জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। এ জন্য কোনো আইন পরিবর্তন করতে হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য আইন পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রয়োজন হবে না। তাত্ক্ষণিকভাবে যেন চাহিদা মেটানো যায়, সে জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক সময় বন্যার কারণে কিছু পণ্যের সরবরাহ কমে যায়। তখন এসব পণ্য হয় আমদানি করতে হয় বা অন্যভাবে সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয় সপ্তাহে এক দিন। এসব পণ্য কেনার অনুমতির জন্য এ কমিটিতে আসতে সময় লেগে যাবে এক মাস। এ জন্য টিসিবি কর্তৃপক্ষ বা মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা নিজেরাই প্রয়োজনে এসব পণ্য কিনতে পারবে।

মন্তব্য