kalerkantho

ব্যাংক খাতে সংকট বাড়াবে এটিএম কার্ডে উচ্চ কর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যাংক খাতে সংকট বাড়াবে এটিএম কার্ডে উচ্চ কর

অটোমেটেড টেলার মেশিন বা এটিএম কার্ডের করহার দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সংকটের পাশাপাশি ডিজিটাইজেশনের ওপরও প্রভাব পড়বে।

জানা গেছে, এটিএম কার্ডে উচ্চ করহারের কারণে বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ইস্যু প্রকল্পগুলো থেমে গেছে। অথচ আগে অল্প খরচে কার্ড কিনে প্রায় সবগুলো ব্যাংক বিনা মূল্যে গ্রাহকদের সরবরাহ করত। কিন্তু এখন করহারের কারণে আমদানি কমে গেছে। ব্যাংকগুলো আর বিনা মূল্যে ডেবিট কার্ড প্রদান করছে না। উচ্চ করহারের সিদ্ধান্তে অচিরেই ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম বড় ধাক্কা খাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সূত্র জানায়, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় ডিজিটাল প্লাস্টিক কার্ডের ওপর ট্যারিফ শূন্য করেছে। উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেক্টরে ব্যাংক কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু দেশের রাজস্ব বোর্ড একই পণ্যের ওপর দুই থেকে তিন ডলার পর্যন্ত কর আরোপ করেছে। একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মযজ্ঞে সুবিধাজনক কর পদ্ধতি চালু রাখা। কিন্তু সম্প্রতি ব্যাংকিং প্লাস্টিক কার্ডের ওপর কর আরোপ করা হয়েছে। যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতিতে অচিরেই বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ডেকে আনবে।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট ব্যাংকার নুরুল আমিন বলেন, এটিএম কার্ড আমদানিতে উচ্চ কর আরোপের ফলে সরকারের ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ার কাজ থমকে যাবে। সরকারের কাগজবিহীন লেনদেনের চিন্তায় উচ্চ করহার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ব্যাংকগুলো চায় খরচ কমাতে। কিন্তু কর আরোপ করে খরচ বাড়ানো হলো। এটা ঠিক নয়। আবার অভ্যন্তরীণভাবেও এ ধরনের এটিম কার্ড উৎপাদনে সক্ষম নয় বাংলাদেশ।

জানা গেছে, দেশে একটিমাত্র কার্ড উৎপাদনকারী কম্পানির কারখানা থাকলেও তাদের উৎপাদিত কার্ড নিম্নমানের। উচ্চ কর আরোপের মাধ্যমে এই কম্পানিকে একধরনের মনোপলি বা একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এই কম্পানিটি অচিরেই এটিএম কার্ডের মূল্যবৃদ্ধি করতে যাচ্ছে। ফলে যেসব ব্যাংক এরই মধ্যে মাস্টারকার্ড, আমেরিকান এক্সপ্রেস, ডাইনারস, জেসিবি এবং চায়না ইউনিয়ন পেসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে, তারা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়বে। গ্রাহকরাও ডিজিটাইজেশন সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে কার্ডের চাহিদা বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ। এত দিন একটি উৎপাদনকারী কারখানার সঙ্গে ১২টি কম্পানি এটিএম কার্ড আমদানি করত। ব্যাংকগুলো দেশে উৎপাদিত কার্ডের পাশাপাশি জার্মানি, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরে উৎপাদিত কার্ড সংগ্রহ করত। ফলে ভালো মানের কার্ডগুলো কম খরচে ব্যবহারের সুযোগ ছিল। কিন্তু উচ্চ কর আরোপ করায় দেশে উৎপাদিত নিম্নমানের কার্ড কিনতে বাধ্য হচ্ছে ব্যাংকগুলো।

মন্তব্য